Column
উইকিলিকস তথ্যঃ আওয়ামি লিগের লাভ, জামাতের সর্বনাশ

21 Jul 2015

#

এ্কটি গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল, তাদের নেতারা, কর্মী এবং সমর্থকেরা থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এবং এমন কি ব্যক্তিগত লাভের জন্য অনেকেই দল পরিবর্তন করে থাকেন। এই ব্যাপারটি এখন খুবই স্বাভাবিক এবং সাধারণ।

 এই ধরণের দল বদল সাধারণত নির্বাচনের আগে দিয়ে হয়ে থাকে কিন্তু বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে দল পাল্টানোর হিড়িক চলতেই থাকছে। গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে যে সব খবর আসছে, তাতে বিএনপি এবং জামাতের প্রায় কুড়ি হাজার কর্মী-সমর্থক আওয়ামি লিগে যোগ দিয়েছেন এবং আরও অনেকেই সেই পথ ধরেছেন।   


    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি মহল এবং শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে এই দল বদলের পিছনে কোনও নীতি-আদর্শ নেই। যারা করছেন তাঁরা ব্যক্তিগত সুবিধা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্বের তাগিদেই এ কাজ করছেন। 


নব্বই দশকের শেষ দিকে, এরশাদ সরকারের পতনের আগে, তিন বিরোধী দলের জোটের মধে একটি বোঝাপড়া ছিল এই যে,জাতীয় পার্টির কোনও নেতা-কর্মীকে তাদের কোনও দলেই নেওয়া হবেনা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে আসা নেতাদের সরকারে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়া কোনও মতেই আটকানো গেলনা। এরশাদ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দল বদল নিয়ে অনেক মজার চুটকি-গল্প চালু হয়েছিল। 


সাম্প্রতিক কালে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের পর রাজনৈতিক দল বদলের হিড়িক যেন আরও বেড়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এ রকম দল-বদলের ঘটনা আরও ঘটবে। এর কারণ, উইকিলিকসে ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর দেশের সরকারের ই-মেল কথোপকথন। এতে যা জানা যাচ্ছে তা এইঃ


       

        ১. ২০১১ সালের ২৫শে নভেম্বর প্রয়াত সৌদি রাজা বাদশা আবদুল্লা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার জন্য একটি আদেশনামা জারি করেছিলেন। 


        ২. যুদ্ধাপরাধ বিচার বন্ধ করার জন্য জামাত-এ-ইসলামি বাংলাদেশের তরফ থেকে সৌদি আরবকে অনেক বার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেগম খালেদা জিয়াও সৌদি সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন, যদিও তাতে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি সৌদি সরকারের তরফ থেকে।


         ৩. রিয়াধের বাদশাহ ফয়জল স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রের (আরাফত) চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু আরাফত  দূর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সেই অনুরোধে রাজী হয়নি সৌদি সরকার।


         উইকিলিকসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আরাফত সেই সময় ফয়জল হাসপাতালের মতই সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারনেও রিয়াধ \'না\' করেছিল, কারণ রাজী হলে সৌদি আরবের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের  সম্পর্কে চিড় ধরতে পারত।  


এখানে উল্লেখ্য যে ২০০৮ থেকে ২০১৪-এই দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকায় সৌদির রাষ্ট্রদূত ছিলেন ডঃ বুসাইরি এবং এই সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে যাবতীয় ই-মেল আদানপ্রদাণ হয়েছিল।     যুদ্ধাপরাধ বিচারের ব্যাপারেও সৌদি আরব আওয়ামি লিগ সরকারকে কখনও কিছু বলেনি, বরং বাংলাদেশই এ ব্যাপারে তাদের অবহিত করে গেছে।


সম্প্রতি ইয়েমেন সংকটের সময় পাকিস্তান সৌদি আরবের আহ্বানে সাড়া দেয়নি, কিন্তু বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে ছিল। এই কারণে বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপারে খুশি সৌদি আরব। সৌদির সঙ্গে আওয়ামি লিগ সরকারের সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অন্য রকম ধারনা ছিল, কিন্তু উইকিলিকসের দেওয়া তথ্যে আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে। 


উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসে হতাশ বিএনপি এবং জামাত। সংগঠনের জন্মের সময় থেকেই সৌদি আরব থেকে অর্থ সাহায্য পেত জামাত। কিন্তু এখন তারা হতচকিত। জামাতের চতুর সমর্থকেরা এখন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দল বদল করতে শুরু করেছে। সময় আসবে যখন বাংলাদেশ থেকে জামাত সম্পূর্ন ভাবে মুছে যাবে। ইতিমধ্যে, উইকিলিকসের তথ্য ফাঁসের জেরে বেগম খালেদা জিয়া হঠাত করেই \'উমরাহ\'র জন্য সৌদি আরবে তাঁর পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত রেখেছেন। 




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics