Column
হিজব-উত-তাহিরের সঙ্গে লড়াই

27 Jul 2015

#

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী জঙ্গি ইসলামি সংগঠন হিজব-উত-তাহিরের কিছু সদস্যকে ২৯শে জুন, ২০১৫ তারিখে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আটক করা হয়েছে জিহাদি সম্পর্কিত কিছু পুস্তিকা,

 নিষিদ্ধ সংগঠনটির কিছু লিফলেট এবং ল্যাপটপ। এর আগে ২০১৩ সালের ১৯শে এপ্রিল ঢাকার গুলশন এলাকার আজাদ মসজিদ চত্বর থেকে বেশ কয়েক জন এইচ ইউ টি সদস্যকে লিফলেট সমেত গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ঐ লিফলেটগুলি তারা মসজিদের আসা মানুষদের মধ্যে বিলি করছিল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে খিলাফত শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাস্তায় নেমে এইচ ইউ টির লোকেরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।


 দেখা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও  এই চরমপন্থি ইসলামি সংগঠনটির কার্যকলাপ অব্যাহতই থেকেছে। চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এইচ ইউ টি সদস্য নাজমুল হুদা এই জঙ্গি দলটির দেশজোড়া কার্যকলাপের কথা প্রকাশ করেছে।


তার কথা অনুযায়ী, মহিউদ্দিন নামে চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির (আই আই ইউ)  এক আরবি শিক্ষক চট্টগ্রাম অঞ্চলে এইচ ইউ টি-র কাজকর্মের প্রধান সমন্বয়কারী। আই আই ইউ কার্যত জামাত-এ-ইসলামি-নিয়ন্ত্রিত এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারীই  জামাতের নেতা, কর্মী অথবা সমর্থক।


জামাতের সেন্ট্রাল কমিটি সদস্য মির কাশেম আলি, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যুদ্ধাপরাধ করার জন্য সম্প্রতি যার প্রাণদণ্ডের আদেশ হয়েছে, আই আই ইউ সংলগ্ন চকবাজার এলাকায় একাধিক বাড়ির মালিক। প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষক এবং কর্মী ঐ বাড়িগুলিতে থাকেন। আলি সৌদি আরবের দাতব্য সংস্থা রাবেতা-আল-আলম-আল-ইসলামির বাংলাদেশ-প্রধান। এই সংস্থাটি বৃহত্তম ইসলামি এনজিওগুলির অন্যতম।


বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ইসলামি শাসন চালু করার ডাক দিয়ে এইচ ইউ টি সম্প্রতি লাখ লাখ লিফলেট বিলি করেছে। এই লিফলেটগুলিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত এবং আমেরিকার মত \'ইসলাম বিরোধী\' শক্তির \'চর\' বলে বর্ননা করা হয়েছে। 

 

বি ডি আর বিদ্রোহের প্রথম বর্ষ পূর্তিতে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে আল্লাহ্‌র শাসন চালু করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে আবেদন করে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় লিফলেট বিলি করেছিল এইচ ইউ টি। এই লিফলেটে অভিযোগ করা হয়েছিল, সেনা অফিসারদের হত্যা করার জন্য শেখ হাসিনাই নাকি বি ডি আর বিদ্রোহ করিয়েছিলেন। এও অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দূর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে  আওয়ামী লীগের সহযোগীতায় ভারত ওই বিদ্রোহের পরিকল্পনা করে এবং তার প্রয়োগ ঘটায়। বোঝাই যাচ্ছে, লিফলেটে যা লেখা হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক কর্মীদের তাতিয়ে তাঁদের মনে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধস্পৃহা জাগিয়ে তোলা।

 

দু\'হাজার ন\' সালে যখন এইচ ইউ টি নিষিদ্ধ হয়, সেই সময় এই সংগঠনের ইউ কে শাখার কর্মীরা সেই দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শুধু বাংলাদেশে নয়, আল কায়দার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার জন্য পৃথিবীর কুড়িটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এইচ ইউ টিকে। বাংলাদেশে এইচ ইউ টির প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ম্যানেজমেন্টের শিক্ষক, মহিউদ্দিন আহমেদকে দু\'হাজার দশ সালের অক্টোবর মাসে গ্রেপ্তার করা হলেও গোপনে তাঁর অনুগামীদের সংগঠিত করা হতে থাকল  জামাত-এ-ইসলামি ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।নৈরাজ্য তৈরি করার লক্ষ্যেই এই এইচ এউ টিকে এখন সম্পদের মত ব্যবহার করছে বি এন পি-জামাত জোট। এখনকার বিরোধীরা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন গোপন সাহায্য যুগিয়ে যাওয়া হয়েছিল এইচ এউ টিকে এবং তার ফলেই আজ তৃণমূলস্তরে এই সংগঠনের আজ এত শক্তি। 

 

 দু\'হাজার দশ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সেনা বাহিনী জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্য নিয়ে জনা বারো \'ধর্মান্ধ\' সেনা অফিসারের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই ষড়যন্ত্রের বিশদ জানাতে গিয়ে এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক বলেছিলেন, মেজর পদমর্যাদার একজন অফিসার, যিনি তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, ই-মেল মারফত অন্যান্য কর্মরত অফিসারদের কাছে দু\'হাজার বারোর জানুয়ারি মাসের নয় এবং দশ তারিখে ঘটানোর জন্য ওই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার বিশদ জানিয়েছিলেন।এই অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টায় এইচ ইউ টি সরাসরি যুক্ত ছিল বলে ওই বিবৃতিতে জানান হয়। এইচ ইউ টির অনুগামী অন্তত ষোলজন অফিসার এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন জানা যায়। দেশের সেনাবাহিনীর উপরের দিকে এরকম কতজন চরমপন্থী ইসলামী আছে, অভ্যুত্থানের চক্রান্ত ফাঁস হওয়ার পরে সেই আশঙ্কা সবাইকে আচ্ছন্ন করেছিল। 

 

বি এন পি-জামাত চক্রের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া নিষিদ্ধ চরমপন্থী সংগঠন, এইচ ইউ টি \'খেলাফত\', অর্থাৎ খলিফা-শাসিত রাষ্ট্রের দাবিতে ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ এবং মিছিল করবে বলে সম্প্রতি লিফলেট ছেপে বিলি করেছে। তাদের এই উদ্যোগ সরকারের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে খেলাফতরাজ গঠন করার ডাক দিয়ে পোস্টারও দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন জায়গায়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল রক্ষা করা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী তৈরি করা এবং আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও ভারতের মত দেশগুলির প্রভাব এড়িয়ে চলার দাবিও করা হয়েছে এইসব পোস্টারগুলিতে। 

 

প্যালেস্টিনিয়দের জন্য পৃথক দেশের দাবিতে লড়াই করার উদ্দেশ্যে আদতে জেরুজালেমে গঠিত হওয়া এইচ ইউ টি একটি জঙ্গি সংগঠন, যারা দু\'হাজার সাল থেকে বাংলাদেশে তাদের কাজ কর্ম শুরু করে। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পরেও যাতে সেখানে কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যে এইচ ইউ টির ইউ কে শাখা এখন তহবিল জুগিয়ে যাচ্ছে নানা গোপন পথে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics