Column
বিজিবি-বিএসএফঃবন্ধুত্বপূর্ন প্রতিযোগিতা

07 Oct 2015

#

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে জলপাইগুড়িতে ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের কর্মীদের নিয়ে একটি শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়েছিল। দু'পক্ষ থেকেই ১৪ জনের এক একটি দল অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন দিক থেকে লক্ষ্যভেদ করার এই প্রতিযোগিতায় ।

'ইন্দো-বাংলাদেশ মৈত্রী' লেখা একটি প্লাকার্ড এই উপলক্ষ্যে বেলুনে করে আকাশে ওড়ানো হয়। বিজিবি-র অ্যাডিশনাল ডিরেকটর মেজর নুরুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রতিযোগিতা দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ় করবে এবং  ছোটখাটো মতানৈক্য মেটাতে সাহায্য করবে।

 

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে জলপাইগুড়িতে ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের কর্মীদের নিয়ে একটি শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়েছিল। দু'পক্ষ থেকেই ১৪ জনের এক একটি দল অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন দিক থেকে লক্ষ্যভেদ করার এই প্রতিযোগিতায় ।
"বাংলাদেশে এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। সুতরাং বিজিবি এবং বিএসএফ-এর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও আমাদের পক্ষে জরুরি।  এই লক্ষ্যে পৌঁছনোরই একটি পদক্ষেপ এই  শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এর ফলে দুই বাহিনীর মধ্যে মতানৈক্যের জায়গাগুলিও কমে আসবে," বিএসএফ-এর আই জি, ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টার্স, নর্থ বেঙ্গ্‌ল, নারায়ন চৌবে বলেন।

 

কে বিজয়ী হবে-বিজিবি না বিএসএফ- এই প্রশ্নের উত্তরে দুই বাহিনীর দুই আধিকারিকই বলেন,এই চ্যাম্পিয়নশিপ এমনই একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে করা হচ্ছে যে, হার জিত যাই হোক, দু'পক্ষই খুশি হবে।

 

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ন পরিবেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং সেক্রেটারি-স্তরের আলোচনা হয়েছে। এতে দু'পক্ষই  আরও বেশি  যৌথ টহলদারি এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে অরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চল, বিশেষত ত্রিপুরা এবং মিজোরামের সীমান্তে  সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শেষে একটি প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছিল যে, দু'দেশই সীমান্তে চোরাচালানকারী এবং অপরাধীদের কার্যকলাপ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য বেশি করে যৌথ টহলদারিতে সম্মত হয়েছে।

 

অনেক ক্ষেত্রেই যে দু'দেশের মৎস্যজীবীরা অনিচ্ছাকৃত ভাবে সামুদ্রিক জলসীমানা পার হয়ে যান, সেই সমস্যার নিরসনের জন্যেও দু'দেশ রাজি হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রতিবেশীসুলভ সদিচ্ছা প্রদর্শন করে জলসীমানা লঙ্ঘন করা মৎস্যজীবীদের আটক না করে তাদের নৌকা সহ ফেরত পাঠানোও শুরু হয়েছে। 

 

প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়েছিল যে, ভূয়ো ভারতীয় নোট পাচারকারী এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া বিদ্রোহী ভারতীয় সংগঠনগুলির সদস্যদের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ভারত তার প্রশংসা করেছে।

 

দু'দেশই এ ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেছে যে, অনেক বছর পর আবার দু'দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ডেপুটি কমিশনার/ ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে বৈঠক  শুরু করা গেছে। "স্থানীয় সমস্যাগুলি কেন্দ্রীয় স্তরে না পাঠিয়ে স্থানীয় স্তরেই মীমাংসা করে নেওয়ার ব্যাপারে এই সব বৈঠকগুলি খুবই ফলদায়ক," প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে।

 

এখানে উল্লেখ করা হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হবেনা যে, ২০১৩ সালের ৬ই নভেম্বর বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ-এর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বৈঠক হয়। সেখানে নিজেদের উর্দি পরে দু'দেশের সীমান্ত রক্ষীরা সৌহার্দ্যপূর্ন সম্পর্কের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নিজেদের জাতীয় পতাকা অবনমিত করেন। এই অনুষ্ঠানটিতে সীমান্তের দু'দিকের বাঙালি সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের উপর আলোকপাত করা হয়েছিল।

 

বিজিবি-র ডিজি মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন দুই বাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্বের এই পরিবেশ অভূতপূর্ব এবং অতুলনীয়। দুই বাহিনীর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার ফলে শুধু যে এই দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের কাজের ব্যাপারে উপকৃত হচ্ছে তা নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর সুফল পাচ্ছে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র।

দুই বাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্বের এই পরিবেশ অভূতপূর্ব এবং অতুলনীয়। দুই বাহিনীর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার ফলে শুধু যে এই দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের কাজের ব্যাপারে উপকৃত হচ্ছে তা নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর সুফল পাচ্ছে প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্র।

 

দুই বাহিনীর মধ্যে বর্তমানের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির প্রকাশ ঘটে ১৫ অগাস্টে, ভারতের ৬৯তম স্বাধীনতা দিবসে, যখন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেে আখাউড়ার বিপরীত প্রান্তে মোতায়েন থাকা বিএসএফ কর্মীরা বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। আগারতলা সীমান্ত চেকপোস্টে বিএসএফ কর্মীরা বিজিবি কর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণও করেন। পালটা সৌজন্য প্রদর্শন করেন বিজিবি কর্মীরাও।

 

ঈদ, দিওয়ালি, হোলি, বিজয় দিবস এবং ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের মত বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানেও দুই বাহিনীর মধ্যে মিষ্টি দেওয়া নেওয়া হয়ে থাকে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দৃঢ়তর করতে সীমান্তের দু-দিক থেকে মিষ্টির আদানপ্রদান একটি পুরনো এবং প্রথাগত রীতি। অনেক বছর ধরে চলে আসা এই রীতির মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক সদিচ্ছা এবং সৌজন্যেরই প্রকাশ ঘটে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics