Column
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা

25 Oct 2015

#

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা পরমাণু শক্তি সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোত ভাবে সাহায্য করবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সমুদ্রবিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান,পরমাণু শক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ১৩ই অক্টোবর নতুন দিল্লিতে ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ডঃ হর্ষ বর্ধনের একটি বৈঠকে এই বিষয়গুলি উত্থাপিত হয়।

 

নিজস্ব উপগ্রহ পেয়ে গেলে বিদেশী উপগ্রহের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমবে এবং সেই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত জায়গাগুলিতে কেবল চ্যানেল এবং টেলি পরিষেবার উন্নতি ঘটবে।
আলোচনা চলাকালে ওসমান বলেন দু-দেশ সম্প্রতি যে ভাবে সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছে তাতে এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নেতা এবং জনগণের মধ্যে অসাধারন বন্ধুত্ব প্রকাশ পেয়েছে। ডঃ হর্ষ বর্ধন বলেছেন, দুই প্রতিবেশী দেশ একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী এবং পারষ্পরিক সহযোগিতার জন্য দু'দেশেরই উচিত সমুদ্র বিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান, ভূগর্ভস্থ জল আর্সেনিকমুক্ত করা্র মত বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা।

 

 বৈঠক শুরুর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং তাদের যে কোনও রকমের সাহায্য দেবার জন্য নির্দিষ্ট ভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

 

এর আগে, ২০১৪ সালে নতুন দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রীদের জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিটি(জে সি সি)-র তৃতীয় দফার বৈঠক চলাকালীন ভারত এবং বাংলাদেশ পরমাণু এবং মহাকাশ- এই দু'টি অতি উচ্চ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পথে এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছিলে। সহযোগিতার জন্য  জে সি সি পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শক্তি এবং মহাকাশ সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র  চিহ্নিত করেছিল।

 

জে সি সি'র বৈঠকের পর এই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উলেখ করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রীয়া রঙ্গরাজন বলেছিলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত স্তরে আমর প্রাথমিক আলোচনা করেছি। আমরা খোলাখুলি ভাবে বলে রেখেছি যে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতার বিনিময়ে যে কোনও ভাবে কিছু পাওয়ার কথা বলার পূর্ন স্বাধীনতা তাদের আছে। তারা শুধু সে কথা আমাদের বলবে। কী তার চায় সে কথা শোনার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।" সুতরাং এ কথা পরিষ্কার ভাবে বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, পারমানবিক শক্তি এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের  নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ পাওয়া মাত্রই ভারত এ বিষয়ে এগিয়ে যাবে।

 

২০১২ সালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন আমেরিকার স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে রাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নামানুসারে 'বঙ্গবন্ধু-১' নামের উপগ্রহের নকশা তৈরির কাজের পরামর্শের জন্য একটি ৮২.৫ কোটি টাকার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইকনমিক্স কাউন্সিলের একটি বৈঠকে ওই উপগ্রহ নির্মাণ এবং তার উৎক্ষেপণ এবং সেই সঙ্গে দু'টি গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি ছাড়পত্র পায়।

 

 জুন মাসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ, 'বঙ্গবন্ধু-১' ২০১৭ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে। ভারত যে সার্ক উপগ্রহ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে, তার প্রশংসা করেন তিনি।  

 

প্রধানমন্ত্রী মোদী শেষবার যখন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনে (ইসরো) যান, সেই সময় তিনি বলেন তিনি চান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত যে উল্লেখযোগ্য দক্ষতা অর্জন করেছে, তার সুফল অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলি, বিশেষত সার্কভুক্ত দেশগুলিও পাক। সার্ক দেশগুলির কাজের জন্য একটি উপগ্রহের নকশা তৈরির জন্য ইসরোকে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি, বিশেষত মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির থেকে বাংলাদেশ প্রভূত ভাবে লাভবান হতে পারে।

 

নিজস্ব উপগ্রহ পেয়ে গেলে বিদেশী উপগ্রহের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমবে এবং সেই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত জায়গাগুলিতে কেবল চ্যানেল এবং টেলি পরিষেবার উন্নতি ঘটবে। এ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তা সহ বিভিন্ন  আবহাওয়া বিষয়ক তথ্যও এই উপগ্রহের মাধ্যমে খুব সহজেই পাওয়া  যাবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মানচিত্র তৈরি করতেও উপগ্রহকে ব্যবহার করা যাবে।

 

এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি, বিশেষত মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির থেকে বাংলাদেশ প্রভূত ভাবে লাভবান হতে পারে।পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা আরও সত্যি।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics