Column
আল্লার দলের কাহিনী

29 Oct 2015

#

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় লালমনিরহাট জেলার পুলিশ-প্রধান 'আল্লার দল' নামের সংগঠনটির নাশকতামূলক কাজকর্মের বিষয়ে জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে পুলিশ বিশদ খবর পায় তাদের হাতে আটক হওয়া জঙ্গি সংগঠনটির কয়েক জন সদস্যকে জেরা করে। সংগঠনটি সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে জামাত নেতা এবং যুদ্ধাপরাধী আলি আহসান মুহম্মদ মুজাহি্দের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলে তৎক্ষণাৎ আঘাত হানতে।

২০০৭ সালে মতিন মেহদি নামে এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করার পর বাংলাদেশ পুলিশ আল্লার দল নামে সংগঠনটির কথা প্রথম জানতে পারে। জে এম বি থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠনটি জামাত-এ-ইসলামি বাংলাদেশের কাছ থেকে  সমস্ত রকমের সাহায্য পেয়ে এসেছে। ২০১৩ সালে কুরিগ্রাম আদালত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিন বছরের কারাবাসের আদেশ দেয়। জেলের ভিতর থেকেও মতিন তার স্থানীয় সহচরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলছিল। স্থানীয় আইনরক্ষক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দলের কার্যকলাপ লালমনিরহাট, কুরিগ্রাম, রাজশাহি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিনপশ্চিম খুলনা এবং ঝালোকাঠি অবধি বিস্তৃত।


২০০৭ সালে মতিন মেহদি নামে এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করার পর বাংলাদেশ পুলিশ আল্লার দল নামে সংগঠনটির কথা প্রথম জানতে পারে। জে এম বি থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠনটি জামাত-এ-ইসলামি বাংলাদেশের কাছ থেকে সমস্ত রকমের সাহায্য পেয়ে এসেছে।
 ২০১৩ সালের মার্চ মাসে পাটগ্রাম থানা পুলিশ আল্লার দলের ১৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং ভারত-সীমান্তের মাত্র ৪০০ গজের মধ্যে একটি পাত ক্ষেতে একটি গোপন অস্ত্র চালনা শিবিরের সন্ধান পায়। এর পরের মাসে সংগঠনের বেশ কয়েক জন শীর্ষ নেতাকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে  গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া এই সব জঙ্গিরা এখন অবশ্য জামিন পেয়ে জেলের বাইরে। তবে যাতে তারা কোনও নাশকতামূলক কাজ না করতে পারে তার জন্য তাদের উপর সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নজর রাখা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এঈ ১৩ ব্যক্তির মধ্যে জনৈক আয়নাল হক প্রধান পাটগ্রামের রহমতপুর এলাকার এক জন জামাত-এ-ইসলামি নেতা। পুলিশি জিম্মায় দু'দিন থাকার সময় জেরার মুখে আয়নাল জানিয়েছে যে, জামাতের স্থানীয় নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আল্লার দলের জন্য সদস্য সংগ্রহ করত সে। এই সব নতুন সদস্যদের বেশির ভাগই অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসর পরিবার থেকে নেওয়া, কেননা খুব সহজেই এদের জঙ্গি কাজকর্মে টেনে আনা যায়।


সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আলি আহসান মুহম্মদ মুজাহিদের নিকট আত্মীয় আনোয়ারুল ইসলাম রাজু পাটগ্রাম অঞ্চলে আল্লার দলের কার্যকলাপে নেতৃত্ব দিত।  মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হলে তৎক্ষণাৎ যে প্রতিশোধমূলক কাজকর্মের পরিকল্পনা করা হয়, তার সমন্বয়ের কাজে যুক্ত ছিল সে। পুলিশের জেরায় রাজু জানিয়েছে, উপজিলা কাউন্সিলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং জামাত নেতা আলাউদ্দিন ফতেমি একটি দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নাশকতামূলক কাজের জন্য তৈরি করে রেখেছিল। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের সময় যে হিংসাত্মক কান্ড ঘটানো হয়েছিল, তাতে অন্যতম অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন এই ফতেমি। 



লালমনিরহট জেলা পুলিশের প্রধানের কথা অনুযায়ী, আল্লার দল এবং জে এম বি-র জন্ম একই শিকড় থেকে। জে এম বি নিষিদ্ধ দল হিসেবে ঘোষিত হলেও বিভিন্ন নামের আড়ালে নিজেদের পুনর্গঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী এদের অর্থের উৎসের হদিশ করতে  না পারলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, সংগঠনের শুভানুধ্যায়ী, সমর্থকদের কাছ থেকেই  তহবিল এসেছে। এই অর্থের বড় একটি অংশ খরচ হয়েছে দরিদ্র পরিবার থেকে লোভ দেখিয়ে সদস্য জোগাড় করার কাজে।  টাকা পেয়ে এই সব গরীব মানুষরা কৃতজ্ঞ থাকে এবং পরিবারের কর্মহীন যুবকদের জঙ্গি কাজকর্মে যোগ দিতে আপত্তি করেনা।  শুধু তা-ই নয়, আল্লার দলের মত সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী বলেও মনে করেনা এইরকম অনেক দরিদ্র পরিবার, যারা তাদের কাছ থেকে অর্থানুকূল্য পেয়েছে।
আল্লার দলকে ব্যবহার করে তাই আল্লার নামে গরীব মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের অসাধারণ কাজের জন্য আল্লার দলের আসল চরিত্র কী, সে ব্যাপারে অনেক ধর্মভীরু মানুষেরও কিছুটা ধারনা হচ্ছে। ধর্মের নামে যে সব গরীব মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের শিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন।
 


আল্লার দলকে ব্যবহার করে তাই আল্লার নামে গরীব মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের অসাধারণ কাজের জন্য আল্লার দলের আসল চরিত্র কী, সে ব্যাপারে অনেক ধর্মভীরু মানুষেরও কিছুটা ধারনা হচ্ছে। ধর্মের নামে যে সব গরীব মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের শিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন।


সাম্প্রতিক অতীতে হিলফুল ফুজুল নামের  সংগঠনের সন্ত্রাসী ছক বানচাল করার জন্য নিরাপত্তা কর্মীরা প্রশংসা আদায় করেছিলেন। এবার জঙ্গি সংগঠন আল্লার দলের কার্যকলাপ ধরে ফেলায় আরও একটি পালক যুক্ত হল তাঁদের টুপিতে।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics