Column
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি

31 Oct 2015

#

১৯৭২-৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেটের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮০০ কোটি টাকা। চল্লিশ বছর পরে বাজেট এখন তিন লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে আর জাতীয় অর্থনীতির আয়তন পাঁচ হাজার কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ন' লক্ষ কোটি টাকায়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারেই শুধু নয়, তার ধারাবাহিকতাতেও আশ্চর্য্ সারা পৃথিবী। জিডিপি-র নিরিখে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪৪তম স্থানে, যা বিশ্ব ব্যাংক এবং আই এম এফ-এর মত সংস্থাগুলিকে এবং সেই সঙ্গে গবেষকদের বিস্মিত করেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারেই শুধু নয়, তার ধারাবাহিকতাতেও আশ্চর্য্ সারা পৃথিবী। জিডিপি-র নিরিখে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ৪৪তম স্থানে, যা বিশ্ব ব্যাংক এবং আই এম এফ-এর মত সংস্থাগুলিকে এবং সেই সঙ্গে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। দ্য ইকনমিস্ট পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর কোনও অর্থনৈতিক বনিয়াদ না থাকা বাংলাদেশের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনীতির পুনর্গঠন করা। সেখানে প্রথম বাজেট চিহ্নিত হয়ে থাকবে উন্নয়ন, পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসনের উপর গুরুত্ব দেবার জন্য। বাংলাদেশে দ্রারিদ্যের হার সেই সময় থেকে   ৯০ শতাংশ থেকে নেমে ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত ছ'বছরে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ধারাবাহিক ভাবে ছ' শতাংশের বেশি থেকেছে, যা পৃথিবীতে আর মাত্র চারটি দেশে সম্ভব হয়েছে, এবং তা হয়েছে বিশ্ব জুড়ে টানা অর্থনৈতিক মন্দা চলা সত্ত্বেও। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্ডিকেটর ডাটাবেস এবং আই এম এফ ওয়ার্ল্ড ইকনমিক আউটলুকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের স্থান ছিল ৫৮তম। ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি পৌঁছোয় ৪৪ তম স্থানে, পিপিপি-ভিত্তিক হিসেবে যার স্থান ৩৩তম।  ব্রিটেন পার্লামেন্টের ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অ্যান্ড ডিফেন্স ডিভিশন "পলিটিকাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ" শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শক্তিশালী রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে যে অগ্রগতি বাংলাদেশ লাভ করেছে, তা সর্বত্র প্রশংসিত।  

 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ শুধু যে অর্থনীতিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তাই নয়, আইনশৃংখলা, সন্ত্রাসবাদীদের গ্রেপ্তার করে তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কাজকর্মের ছক বানচাল করা, প্রভৃতি ব্যাপারেও সাফল্য লাভ করছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনা দু'টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। তার একটি পরিবেশ রক্ষার জন্য রাষ্ট্র সংঘের দেওয়া  "চ্যাম্পিয়নস অফ দি আর্থ" এবং অন্যটি ক্ষুধা ও অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের দেওয়া "অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।"
শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে বাংলাদেশ যদি শেখ হাসিনার দেখানো পথ ধরে চলে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে সে পশ্চিমী দেশগুলিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে।
 
পিতা এবং বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সমস্ত সদস্যদের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর যখন শেখ হাসিনা রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর একমাত্র পরিচয় ছিল তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের কন্যা। কিন্তু এখন তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন 'উন্নয়নের জননী' এবং স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির এক জন শক্তিশালী নেত্রী হিসেবে। শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে বাংলাদেশ যদি  শেখ হাসিনার দেখানো পথ ধরে চলে, তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে সে পশ্চিমী দেশগুলিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics