Column
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ

12 May 2016

#

অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে, বিশেষত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে, ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করে চলেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশও তার নিজের ব্যাপারে অনধিকার চর্চা না করতে বার বার বলেছে পাকিস্তানকে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম পাকিস্তানকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপার থেকে দূরে থাকতে বলে ইসলামাবাদের প্রতি এই বার্তা দিয়েছেন যে, তারা যেন ১৯৭৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা না করে। একই শব্দাবলীর পুনরুক্তি করে মন্ত্রী বলেছেন, তা যদি করা হয়, তবে তা বাংলাদেশকে আগের মতই হতাশ করবে, কেননা বাংলাদেশ চায়না তার অভ্যন্তরীন ব্যাপারে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র ক্ষোভ-উদ্বেগ প্রকাশ করুক।
জামাত নেতা মতিউর রহমান নিজামির মৃত্যুদন্ডের আদেশ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখায় এর পরেও 'উদ্বেগ এবং বেদনা' প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক। পাকিস্তান এও বলেছে যে, ১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি, যা নাকি ১৯৭১-এর ঘটনাবলীর ব্যাপারে না তাকিয়ে সামনের দিকে চলার জন্য আহ্বান করেছিলে, তার মর্ম অনুসরণ করা দরকার।

বাহাত্তর বছর বয়সী মতিউর রহমান নিজামি, ২০০০ সাল থেকে জামাতের নেতা এবং ২০০১-২০০৬ সালে ইসলামি জোট সরকারের মন্ত্রী, সংগ্রামের সময় জামাতের ছাত্র সংগঠনের নেতা ছিলেন। পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি বাহিনী আল-বদরেরও নেতা ছিলেন তিনি। সংগ্রামের অন্যতম এক ভয়ানক অধ্যায়ে লেখা আছে আছে এই আল-বদরের নাম, যে আল-বদর শীর্ষ স্থানীয় শিক্ষাবিদ, লেখক, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকদের ব্যাপক হারে হত্যা করেছিল। নিহতদের দেহগুলি, চোখ এবং হাত বাঁধা অবস্থায় জলা জায়গায় অথবা শহরতলী অঞ্চলে স্তূপীকৃত ভাবে পাওয়া গিয়েছিল। দু'হাজার দশ সাল থেকে জেলে থাকা নিজামির বিরুদ্ধে ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইবুনাল ফাঁসির হুকুম দেয় ২০১৪ সালে। ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল এর পর সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেওয়ায় দন্ড কার্যকর করার পথে আর কোনও বাধা থাকেনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম পাকিস্তানকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন ব্যাপার থেকে দূরে থাকতে বলে ইসলামাবাদের প্রতি এই বার্তা দিয়েছেন যে, তারা যেন ১৯৭৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ভুল ব্যাখ্যা না করে। একই শব্দাবলীর পুনরুক্তি করে মন্ত্রী বলেছেন, তা যদি করা হয়, তবে তা বাংলাদেশকে  আগের মতই হতাশ করবে, কেননা বাংলাদেশ চায়না তার অভ্যন্তরীন ব্যাপারে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র ক্ষোভ-উদ্বেগ প্রকাশ করুক। 
একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেক্টর কমান্ডার ফোরাম পাকিস্তানের বিবৃতির নিন্দা করে বাংলাদেশ সরকারকে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে। তারা বলেছে, পাকিস্তানের এ হেন আচরণ দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং সার্বভৌমোত্বের উপর এক সরাসরি আঘাত এবং এর একটা স্থায়ী বিহিত হওয়া দরকার।
 
অনেক আগে থেকেই যুদ্ধাপরাধ বিচার নিয়ে পাকিস্তান তাদের তথাকথিত 'উদ্বেগ' প্রকাশ করে চলেছে। ২০১৩ সাল থেকে সে দেশের সংসদে এ বিষয়ে  আলোচনার জন্য ছ'বার মোশন আনা হয়েছে। দু'হাজার পনেরো সালের নভেম্বর মাসে সাকা চৌধূরী এবং আলি আহসানের প্রাণদন্ড কার্যকর হলে পাকিস্তান আবার যুদ্ধাপরাধ বিচার এবং তার রায়ের নিন্দা করে। 

পাকিস্তান উদ্বিগ্ন এই কারনে যে, জামাতের এই সব নেতারা পাকিস্তানের বশংবদ  ছিলেন। যে পাকিস্তান নিজের জায়গায় জঙ্গি ইসলামিদের প্রাণদন্ড দেওয়ার ব্যাপারে ভাবিত নয়, সেই পাকিস্তান বাংলাদেশে আইনানুগ চলা বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীদের প্রাণদন্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করে চলেছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রাসিডেন্ট শাহরিয়ার কবির চুয়াত্তর সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির একটি পূর্ব শর্তের কথা উল্লেখ করে সেই চুক্তির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।  চুক্তি অনুযায়ী,  বাংলাদেশ থেকে রেহাই পাওয়া ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দী সেনার বিচার পাকিস্তানে হবে এবং বাংলাদেশে আটকে থাকা পাকিস্তানিদের পাকিস্তান ফেরত নেবে। এই শর্তগুলি না পালন করে পাকিস্তান নিজেই চুক্তিভঙ্গ করেছে। কবির আরও বলেছেন, এই চুক্তি সংসদে গৃহীত হয়নি এবং তাই তাকে অনুসরণ করার কোনও বাধ্যবাধকতা উভয় পক্ষেরই নেই। তাঁর মত, গুরুত্ব বিচার করে দু'দেশে তাদের হাইকমিশনগুলির স্থান নামিয়ে আনা উচিত।

 একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেক্টর কমান্ডার ফোরাম পাকিস্তানের বিবৃতির নিন্দা করে বাংলাদেশ সরকারকে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে। তারা বলেছে, পাকিস্তানের এ হেন আচরণ দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং সার্বভৌমোত্বের উপর এক সরাসরি আঘাত এবং এর একটা স্থায়ী বিহিত হওয়া দরকার।



Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics