Column
জঙ্গিঃ সিঙ্গাপুরে আটক বাংলাদেশি শ্রমিকেরা

13 May 2016

#

সম্প্রতি 'ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ' (আই এস বি) নামের একটি সংগঠনের আট জন সদস্যকে সিঙ্গাপুরে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশে ফিরে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ছক কষছিল তারা। আই ইস বি নামের এই সংগঠনটি মূলত অভিবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়ে গঠিত। মে মাসের তিন তারিখে সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি প্রেস রিলিজ জানিয়েছে যে, ওই আট জনকে সে দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে যে, এই জঙ্গিরা সিরিয়া এবং ইরাকে বিদেশি যোদ্ধা হিসেবে আই এস আই-তে যোগ দেবার পরিকল্পনা করেছিল।  কিন্‌তু মধ্যপ্রাচ্য যাওয়া অসুবিধাজনক বলে তারা ঠিক করে বাংলাদেশে ফিরে হিংসাত্মক উপায়ে সেখানকার গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানোর এবং  একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তাকে আই এস আই-এর স্বঘোষিত খলিফা রাজের অধীনে নিয়ে আসার।


বাংলাদেশের ইসলামি জঙ্গিরা অন্য দেশের চরমপন্থী সংগঠনগুলি থেকে সক্রিয় সাহায্য পেয়ে থাকে। তাই অন্য দেশ থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের যুবকদের, বিশেষত মাদ্রাসা পড়ুয়াদের চরমপন্থী বানিয়ে তোলার প্রক্রিয়া যে ভাবে হোক বন্ধ করতে হবে।
ধৃত আট জনের মধ্যে অন্যতম, রহমান মিজানুরের কাছ থেকে 'উই নিড ফর জিহাদ ফাইট' (আমাদের জিহাদ যুদ্ধ করা প্রয়োজন) নামে একটি নথি পাওয়া গেছে। এতে এই দলের আক্রমণের নিশানায় থাকা জায়গাগুলির একটি তালিকা পাওয়া গেছে। এগুলির মধ্যে আছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, নৌ এবং বায়ুসেনা ঘাঁটি এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। রহমানের কাছ থেকে অস্ত্র এবং বোমা তৈরির কাগজপত্র ছাড়াও নতুন সদস্যদের মগজ ধোলাইয়ের জন্য তত্ত্ব ও আদর্শের বানী সমণ্বিত বেশ কিছু পত্রিকা পাওয়া গেছে।


আই এস বির এই সদস্যরা সিঙ্গাপুরে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের দলে টেনে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ করছিল।  বাংলাদেশে তাদের লক্ষ্যস্থানগুলির উপর সন্ত্রাসবাদী হামলা করার উদ্দেশ্যে  অর্থ জোগাড় এবং অস্ত্র সংগ্রহও করেছিল তারা। এদের ধরার পর সিঙ্গাপুরের নিরাপত্তা বাহিনী সেই অর্থ আটক করেছে। সিঙ্গাপুরের অন্যতম প্রধান দৈনিক স্ট্রেট টাইমসের খবর অনুযায়ী ২৮শে এপ্রিল এদের আটক করা হয়।


ওয়েবসাইটে  পাওয়া আই এস বি-র 'কিল লিস্ট' অনুযায়ী, বাংলাদেশে তাদের সম্ভাব্য হানার তালিকায় ছিলেন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা, নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশকর্মীরা এবং সেই সাথে  'অবিশ্বাসী'রা।


অন্য একটি ঘটনায়, জঙ্গি যোগাযোগ থাকায় পাঁচ জন অভিবাসী বাংলাদেশি শ্রমিককে সিঙ্গাপুর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এদের ১৩ই মে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এর আগে, ২০শে জানুয়ারি, ইসলামি সন্ত্রাসবাদী দল আল কায়দা এ বং আই এস-এর সমর্থক ২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে সে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিল সিঙ্গাপুর সরকার। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এরা মধ্যপ্রাচ্য এবং বাংলাদেশে সশস্ত্র জিহাদের পরিকল্পনা করছিল।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রগতি এবং বিশ্বে তার সম্মানজনক অবস্থানের পক্ষে এই যে বিপদ, তার শিকড় যাতে গভীরে যাবার আগেই উপড়ে ফেলা যায়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনীতি, পরিকাঠামো এবং কৃষির মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক কালে আগের তুলনায় অনেক উঁচু জায়গায় চলে গেছে। কিন্তু বাড়তে থাকা জঙ্গি কার্যকলাপ সব উন্নয়নই ধ্বংস করে দিতে পারে।


প্রশ্ন, কী ভাবে এই বিশ্বব্যাপী বিপদের মোকাবিলা করা যায়? ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে সম্প্রতি যে সন্ত্রাসবাদী হানা হয়ে গেল, তার থেকে বোঝা যায় ধর্মীয় জঙ্গিপনাকে দমন করা আদৌ সহজ কাজ নয়। বাংলাদেশে এই সমস্যা আরও জটিল। এখানে অসংখ্য মাদ্রাসা রয়েছে, যেগুলি জঙ্গি সদস্য নিয়োগের খুব সহজ জায়গা।


এ কথা ভাবলে ভুল হবে যে, জঙ্গিরা শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরেই পুনর্গঠিত হবার কাজ চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপে এ রকম অনেক জায়গা আছে, যেখানে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে ইসলামিক শাসন প্রবর্তনের লক্ষ্যে নিয়মিত ভাবে নিজেদের মধ্যে দেখা করে নিজেদের সংগঠিত করছে।


মধ্যপ্রাচ্য থেকে কাজ করা আই এস, যারা সম্প্রতি প্যারিসে বন্দুক এবং বোমার আক্রমণ চালিয়ে একশোরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, বাংলাদেশে এক জন রিজিওনাল কমান্ডার নিযুক্ত করেছে বলে ঘোষণা করেছে। আই এস- মুখপত্র 'দাবিক'-য়ের ২০১৫, নভেম্বর সংখ্যার একটি নিবন্ধে এই প্রথম বাংলাদেশে তাদের জঙ্গি পরিকল্পনার আভাস দিয়ে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশে সংগঠনের এক জন আঞ্চলিক নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মুখপত্রে অবশ্য সেই নামটি প্রকাশ করা  হয়নি।


আল কায়দা অথবা আই এস বাংলাদেশে সরাসরি ভাবে কাজ না করলেও তাদের জিহাদি আদর্শের অনুসারী বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন আছে বাংলাদেশে। এরা যে কোনও সময় বড় রকমের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারে। যে হেতু জামাত আর আই এস-য়ের আদর্শ প্রায় এক, তাই আই এস-য়ের পক্ষে বাংলাদেশে অন্ধ জামাত অনুগামীদের মধ্য থেকে সদস্য সংগ্রহ করা সোজা কাজ।


বাংলাদেশের ইসলামি জঙ্গিরা অন্য দেশের চরমপন্থী সংগঠনগুলি থেকে সক্রিয় সাহায্য পেয়ে থাকে। তাই অন্য দেশ থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেই সঙ্গে বাংলাদেশের যুবকদের, বিশেষত মাদ্রাসা পড়ুয়াদের চরমপন্থী বানিয়ে তোলার প্রক্রিয়া যে ভাবে হোক বন্ধ করতে হবে।


বাংলাদেশে সম্প্রতি জঙ্গি হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কিছু ব্লগার, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং বৈদেশিক সহায়তা কর্মী। শুধুমাত্র গত মাসেই ইসলামি জঙ্গিরা পাঁচ জনকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদের উৎসমুখ, জামাত-এ-ইসলামি এই হিংসাত্মক কার্যকলাপের পিছনে আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রগতি এবং বিশ্বে তার সম্মানজনক অবস্থানের পক্ষে এই যে বিপদ, তার শিকড় যাতে গভীরে যাবার আগেই উপড়ে ফেলা যায়, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনীতি, পরিকাঠামো এবং কৃষির মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক কালে আগের তুলনায় অনেক উঁচু জায়গায় চলে গেছে।  কিন্তু বাড়তে থাকা জঙ্গি কার্যকলাপ সব উন্নয়নই ধ্বংস করে দিতে পারে। 




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics