Column
ইজরায়েলের সঙ্গে বিএনপি-র গোপন বোঝাপড়া

30 May 2016

#

যত সময় যাচ্ছে, তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে ইজরায়েলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পুত্র তারিক রহমান এবং নিজের কিছু বিশ্বস্ত ব্যক্তি-যেমন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং বিএনপি'র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল আসলাম চৌধুরির মাধ্যমে এই যোগাযোগ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে যে, বাংলাদেশের শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করতে ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের সাহায্য পাওয়ার জন্য চৌধুরি এই ইজরায়েলি নেতার সাহায্য চেয়েছিলেন।
ইজরায়েলের অন্যতম বৃহৎ লিকুদ পার্টির নেতা মেন্ডি এন শাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরির সাম্প্রতিক বৈঠক বাংলাদেশে বিশাল আলোড়ন তুলেছে। বিএনপি'র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারিক রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই আসলাম চৌধুরি। এ কথা পরিষ্কার যে, তারিক রহমানের সম্মতি না থাকলে আসলাম চৌধুরি শাফাদির সঙ্গে বৈঠকে বসতেন না।

 

মে মাসের ১৫ তারিখে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চৌধুরি স্বীকার করেছেন যে, ভারতের আগ্রায় 'ইন্দো-ইজরায়েল রিলেশনস' শীর্ষক সেমিনার চলাকালীন শাফাদির সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। চৌধুরি অবশ্য দাবি করেছেন যে, ব্যক্তিগত ভাবেই এই সাক্ষাতকার করেছিলেন তিনি। 'দেল আভিভ' নামে একটি ইন্দো-ইজরায়েল সংস্থার উদ্যোগে ওই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছিল।

 

জানা গেছে যে, বাংলাদেশের শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করতে ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের সাহায্য পাওয়ার জন্য চৌধুরি এই ইজরায়েলি নেতার সাহায্য চেয়েছিলেন।

 

আওয়ামি লিগ-বিরোধী নানা ধরনের কার্যকলাপের জন্য তাঁর বিশ্বস্ত সেনানী চৌধুরিকে প্রায়ই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তারিক রহমান। এই চৌধুরির বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ এবং হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানোর ১৭ টি মামলা ঝুলছে। সরকার বিরোধী হিংসাশ্রয়ী বিভিন্ন ঘটনার পুরোভাগে থাকার পুরষ্কার তাঁকে বিএনপি'র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেলের পদ দেওয়া হয় এবং তা দেওয়া হয় তারিক রহমানের নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী। এই তারিক আবার সব সময়েই চরমপন্থী এবং হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষণা করে এসেছেন এবং বিরোধিতা করেছেন প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক নীতি এবং আদর্শের।

বাংলাদেশের জনমনে এখন ব্যাপক ভাবে এই ধারনা বিরাজ করছে যে, যেন তেন প্রকারণ ক্ষমতায় ফেরার সংকীর্ন স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে চলতে গিয়ে খালেদা জিয়া এবং তারিক রহমান বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি চরম অসম্মান প্রকাশ করেছেন। শুধু মুসলিম উম্মাহ্‌ নয়, রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম এবং দেশের আদর্শগত দায়বদ্ধতার প্রতিও চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাঁরা। অভীষ্ঠ পেতে অন্ধ ভাবে চলতে গিয়ে ইহুদীদের কাছ থেকে অকুন্ঠ ভাবে সাহায্য চেয়ে এই দু'জন বুঝিয়ে দিয়েছেন, কত দূরে যেতে পারেন তাঁরা।

 

তারিক রহমানের একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত চৌধুরি তাঁর রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা এবং গুরুত্বের জন্য রহমানের কাছে একান্ত ভাবে ঋণী। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে চৌধুরি বাংলাদেশের রাইজিং গ্রুপের প্রধান। এই সংস্থাটি জাহাজ মেরামতি, জমি-বাড়ি বেচা কেনা, পরিবহণ এবং গ্যাস ফিলিং স্টেশন চালানোর কাজে যুক্ত।

 

'জিয়া পরিষদ' নামে একটি মঞ্চে্র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চৌধুরি ১৯৯১ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। এই জিয়া পরিষদ আসলে ছিল বিএনপি'র একটি সংগঠন। সেই থেকেই বিএনপি'র সঙ্গে, বিশেষত দলের নর্থ ডিস্ট্রিক্ট শাখার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত তিনি।

 

যে দলে মা-ছেলের প্রশ্নাতীত এবং বিরোধিতাহীন কর্তৃত্ব সুবিদিত, সেই বিএনপি দলের একজন নেতা, আসলাম চৌধুরি যে তারিক রহমানের নির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়াই ভারতে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং ইজরায়েলের একটি রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে সখ্যতা করবেন, এ রকম সম্ভাবনা খুব কম।

 

মুসলমান-গরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ইজরায়েলের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশের নাগরিকদের উপরেও ইজরায়েল ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও তীব্র ইজরায়েল-বিরোধী আবেগ বর্তমান। এক দশকেরও বেশি আগে সাপ্তাহিক ব্লিত্‌জ পত্রিকার প্রধান সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরিকে তাঁর একটি নিবন্ধে ইজরায়ের প্রশংসা করা এবং পরিকল্পিত ভাবে সে দেশ ভ্রমণ করার জন্য জাতীয় স্বার্থ ক্ষুন্ন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে ঢাকার একটি আদালতে তাঁর সাত বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। 

 

জানা গেছে, তারিক রহমান আসলাম চৌধুরিকে ইজরায়েলিদের সঙ্গে কথাবার্তা চালানোর একটি রাস্তা বার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

 

বাংলাদেশের জনমনে এখন ব্যাপক ভাবে এই ধারনা বিরাজ করছে যে, যেন তেন প্রকারণ ক্ষমতায় ফেরার সংকীর্ন স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে চলতে গিয়ে খালেদা জিয়া এবং তারিক রহমান বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি চরম অসম্মান প্রকাশ করেছেন। শুধু মুসলিম উম্মাহ্‌ নয়, রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম এবং দেশের আদর্শগত দায়বদ্ধতার প্রতিও চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাঁরা।  অভীষ্ঠ পেতে অন্ধ ভাবে চলতে গিয়ে ইহুদীদের কাছ থেকে অকুন্ঠ ভাবে সাহায্য চেয়ে এই দু'জন বুঝিয়ে দিয়েছেন, কত দূরে যেতে পারেন তাঁরা।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics