Column
বাংলাদেশের অগ্রগতি

19 Feb 2017

#

দু'হাজার ষোলো সাল বাংলাদেশে প্রগতি এবং সমৃদ্ধির এক নতুন ভোরের সূচনা করেছে।

আন্তর্জাতিক সূচক- অর্থনৈতিক থেকে কর্মসংস্থান এবং মানব সম্পদ উন্নয়ণের বিভিন্ন    দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে দেশ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির ব্যাপারে সব উন্নয়ন সংস্থা, সংগঠন এবং বিশ্ব ব্যাংক সহ ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলি প্রভূত প্রশংসা করে বাংলাদেশ এবং সে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ব্যাপারে বিপুল আশা ব্যক্ত করেছে। 

 

দু'হাজার ষোলো সাল বাংলাদেশে প্রগতি এবং সমৃদ্ধির এক নতুন ভোরের সূচনা করেছে। আন্তর্জাতিক সূচক- অর্থনৈতিক থেকে কর্মসংস্থান এবং মানব সম্পদ উন্নয়ণের বিভিন্ন দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে দেশ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির ব্যাপারে সব উন্নয়ন সংস্থা, সংগঠন এবং বিশ্ব ব্যাংক সহ ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলি প্রভূত প্রশংসা করে বাংলাদেশ এবং সে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ব্যাপারে বিপুল আশা ব্যক্ত করেছে।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের একটি রিপোর্টে ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ, অর্থাৎ সরকারি হিসেবের থেকেও বেশি ধরা হয়েছিল। বিস্ময়কর ভাবে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সেই ভবিষ্যদ্বাণীকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির বৃদ্ধি ছয় শতাংশের ঘর ছাড়াতে পারেনি। কিন্তু গত ডিসেম্বরে তা ৭.১১ শতাংশে পৌঁছে সমস্ত অনুমানকে ছাড়িয়ে গিয়ে সর্বকালীন রেকর্ড করেছে।

 

উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষেত্রে মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল্‌সের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সব থেকে বেশি সাফল্য অর্জন করে ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখার মানদণ্ড পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রাষ্ট্র হিসেবে নজর কেড়েছে বাংলাদেশ।

 

সর্বজনীন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেওয়া এবং যে দেশ এতাবৎকাল দূর্বল পরিকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তার ফলে মার খেয়ে এসেছে, সে দেশে বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবার শেখ হাসিনা। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে সংস্কারের ব্যাপারে তাঁর ত্বড়িৎগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।

 

বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং বৃদ্ধিকে সাহায্য করতে যে সব গুরুত্বপূর্ন ঘটনা ঘটেছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাঃ

 

২০১৬-১৭ সালের বাজেট বরাদ্দ

 

বৃহৎ প্রকল্পের কথা মাথায় রেখে জাতীয় বাজেট বরাদ্দকে ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৩.২ বিলিয়ন  করা হয়েছে। এই বরাদ্দ ২০০৬ সালের থেকে তিনগুণ বেশি। ২০১৬-১৭ সালে প্রথমবারের জন্য ২.৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে একগুচ্ছ বৃহৎ প্রকল্প রূপায়ণের জন্য।

 

দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই এবং দরিদ্রদের সমস্ত রকমের সাহায্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে একটি চাল বিতরণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন, যাতে সর্বকালীন কম মূল্যে দরিদ্ররা চাল পাবেন। এর ফলে পঞ্চাশ লক্ষ দরিদ্র এবং অতি দরিদ্র মানুষ দশ টাকা কিলো দরে চাল পাবেন। প্রতি মাসে এই মানুষেরা ৩০ কিলো করে চাল পাবেন। এই উদ্দেশ্যে বাজেটে ৫.৫ লক্ষ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

বাজেটে সব থেকে বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে শিক্ষা খাতে- ৬ বিলিয়ন ডলার। সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ ৫ বিলিয়ন, যা গত বছরের তুলনা ১৬ শতাংশ বেশি।পরিবেশ ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার এবং নারী ও শিশু কল্যানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

 

অর্থনৈতিক স্বাধিকারের ক্ষেত্রে নারীদের  সংখ্যা বৃদ্ধি

ইউ এন ইকনমিক অ্যান্ড সোশাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন অগ্রগতি এনে দেবে। এইচ এস বি শি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতের বাজার। প্রধানমন্ত্রী সেহ হাসিনার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁর ভূমিকা দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে উপরের দিকে নিয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল্‌স এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে, দারিদ্র উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এবং দৃঢ় হাতে জঙ্গিবাদ দমন করে যে ভূমিকা শেখ হাসিনা পালন করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক নেতারা।

 

গত বছরে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্সের একটি সার্ভেতে জানানো হয়েছে যে, অর্থনৈতিক ভাবে নারী-নিয়ন্ত্রিত পরিবারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩০ লক্ষ, যা ২০০৩ সালে ছিল ৬২,২৫৫। এক দশকের মধ্যে এই ধরণের পরিবারের সংখ্যা ছয় গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বোঝা যায় অনেক বেশি সংখ্যক মহিলা চিরাচরিত ভূমিকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। দরিদ্র ঘরের মহিলারা, যাঁদের তেমন কোনও শিক্ষা নেই, তাঁরা রান্নাবান্না এবং ঘর পরিষ্কার করার কাজ না করে সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্ম প্রকল্পের কল্যানে এখন তাঁদের গৃহের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। অর্থনৈতিক কাজকর্মে জড়িত ৪.৫২ মিলিয়ন মহিলার মধ্যে ২.৫ মিলিয়ন আছেন উৎপাদন ক্ষেত্রে, বিশেষত পোশাক শিল্পে। ২০১৩ সালে সর্বক্ষণের মহিলা কর্মীদের সংখ্যা ছিল ৩ মিলিয়ন, যা ২০০৩ সালের সংখ্যার থেকে চারগুণ বেশি।

 

রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ

 

২০১৬-১৭ সালের প্রথম কোয়ার্টারে বাংলাদেশে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফ ডি আই) বেড়েছে ৭.৭৮ শতাংশ। এই সময়ে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নেট এফ ডি আই এসেছে ৬৪২ মিলিয়ন ডলার গত বছরে এই সময়ের তুলনায় ৫০ মিলিয়ন ডলার, অথবা ৭.৭৮ শতাংশ বেশি। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের রেটিং অনুযায়ী, ব্যবসার পরিবেশ বৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ দু’ধাপ উপরে উঠে এখন ১৭৬ তম স্থানে।

 

রেকর্ড বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার

 

২০০১ সালে বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে আমদানি বাবদ  দেয় অর্থ দেরি করে দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। কারণ যে এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার থেকে দিতে হত, তা তৎক্ষণাৎ দিলে প্রায় কিছুই পড়ে থাকতনা এবং তার ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ভাবমূর্তির বড় ক্ষতি হত। কিন্তু গত বছরে এই বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার তৃতীয় বারের জন্য সর্বকালীন রেকর্ড-৩২ বিলিয়ন ডলার ছিল।   এই ভাণ্ডার দেশে আট মাসের আমদানি মূলয় মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট। বৈদেশিক মুদ্রা মজুতের পরিমাণ বাড়ার অন্যতম কারণ স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির দরুন কাঁচা মাল এবং খাদ্যদ্রব্যের কম আমদানি।

 

মুদ্রাস্ফীতি

 

২০১৫ সালের মতই ২০১৬ সালেও মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা কমের দিকে ছিল। এর কারণ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং তার যথাযথ রূপায়ণ। খাদ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যমূল্য স্ফীতি কমে যাওয়ায়    গত ফেব্রুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতির নিম্নগমন ছিল ৪১ মাসের মধ্যে সর্বাধিক- ৫.৬২ শতাংশ।  মে মাসে মুদ্রাস্ফীতি ১৬ বেসিস পয়েন্ট কমে, যা আগের মাসের থেকে ৫.৪৫ শতাংশ কম-৪৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হার। তবে সব থেকে বড় ব্যাপার ঘটেছে ডিসেম্বরে- যখন মুদ্রাস্ফীতি ছ’ বছরের মধ্যে সব থেকে কম-৫.৩ শতাংশ হারে দাঁড়ায়।

 

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি

 

অর্থনীতির সব ধরণের সূচক ধরেই  বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় এই অর্থবর্ষের শেষে  ১১.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৪৬৬ ডলার হয়েছে, যা গত অর্থবর্ষেও ছিল ১,৩১৬ ডলার। প্রায় এক দশক ধরে ছ’ শতাংশ বৃদ্ধি বজায় রাখার পর গত অর্থবর্ষে  বাংলাদেশে সাত শতাংশেরও বেশি
অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্‌টিক্সের সমীক্ষা অনুযায়ী গত বছরে গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.১১ শতাংশ। সব মিলিয়ে পোশাক শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে দেশের অর্থনীতি এবং সেই  সংগে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

রফতানি আয়ের রেকর্ড বৃদ্ধি

 

২০১৬ সালে রফতানি ৭.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.৯৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বৃদ্ধি হয়েছে পোশাক রপ্তানির জন্য, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ।  গত বছরে এই ক্ষেত্রে আয় হয়েছে ২৮.৬১ বিলিয়ন ডলা্‌র, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৮৯ শতাংশ বেশি।

 

নতুন শিল্প নীতি

 

২০১৬ সালের খসড়া শিল্প নীতি, যা দ্রত শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা কথা বলেছে, তা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশের ক্যাবিনেট। এই নতুন নীতি শিল্পক্ষেত্রকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছে। এর মধ্যে দু’টি ক্ষেত্রে সরকার আর্থিক এবং নীতিগত সাহায্য করবে।

 

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-পরিকল্পিত এবং প্রবর্তিত সপ্তম পঞ্চ বার্শিকী পরিকল্পনা বিষময় দূরীকরণ এবং দরিদ্রের ক্ষুধার জীবন উন্ন্যত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সাহস এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এই পদক্ষেপ মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।

 

২০১৭ সালে উজ্জ্বল চিত্র

 

ইউ এন ইকনমিক অ্যান্ড সোশাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিকের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন অগ্রগতি এনে দেবে। এইচ এস বি শি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতের বাজার। প্রধানমন্ত্রী সেহ হাসিনার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁর ভূমিকা দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে উপরের দিকে নিয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে  অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল্‌স এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে, দারিদ্র উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এবং দৃঢ় হাতে জঙ্গিবাদ দমন করে যে ভূমিকা শেখ হাসিনা পালন করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক নেতারা।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics