Column
গত তিন বছরের উন্নয়ন

03 Mar 2017

#

এ বছরের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের উপর্যুপরি দ্বিতীয় দফার শাসনের তৃতীয় বছর পূর্ন করল। দেশের সংবিধান এবং গণতান্ত্রিকতার বেঁচে থাকার ব্যাপারে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন হয়ে রয়েছে এক গুরুত্বপূর্ন এবং অনন্য দিকচিহ্ন।

গত তিন বছরে শেখ হাসিনার সরকার যে সব উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং যে সব সাফল্য অর্জন করেছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হোল ।

 

উন্নয়ন এবং সাফল্য একে অপরের পরিপূরক। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও সরকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোলসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে দেশ নিম্ন-মধ্য আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।

 

প্রগতি এসেছে  বিভিন্ন ক্ষেত্রে, এর মধ্যে আছে কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য। দেশনেত্রী হিসেবে তাঁর সাফল্যের জন্য প্রধামনমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সাফল্য এবং স্বীকৃতিকে মিলিয়ে বর্তমান সরকার 'ভিশন ২০২১'-এর লক্ষ্যে পৌঁছোতে বদ্ধপরিকর।

 

বাংলাদেশ ব্যুরো অফ  স্ট্যাটিসটিক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গড় হার ৬.৫ শতাংশ থেকেছে। এ ছাড়া মাথা পিছু আয় বেড়ে  হয়েছে ১,৪৬৬ ডলার, বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের পরিমাণ হয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলার এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো মুদ্রার পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন ডলার।

 

২০১৬-১৭ সালের জাতীয় বাজেটের পরিমাণ আগের বছরের থেকে ৪৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। উন্নয়ন খাতে বার্ষিক ব্যয় ২০১৬-১৭ সালে হয়েছে ১৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনীতির আয়তন ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। 

 

২০১৬-১৭ সালের জাতীয় বাজেটের পরিমাণ আগের বছরের থেকে ৪৯ হাজার কোটি টাকা বেশি। উন্নয়ন খাতে বার্ষিক ব্যয় ২০১৬-১৭ সালে হয়েছে ১৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনীতির আয়তন ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
রপ্তানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৪.৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে এই আয় ছিল ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৫-১৬ সালে একই সময়ের তুলনায় ৪.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি। "সাউথ এশিয়া'জ টার্ন ঃ পলিসিজ টু বুস্ট কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ক্রিয়েট দ্য নেক্সট পাওয়ারহাউজ " শীর্ষক ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব এশিয় প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার ক্ষমতা এবং বাণিজ্যের বহর বৃদ্ধি করে এক প্রবল পরাশক্তিতে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ।

 

২০১৬-১৭ সালের বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ সর্বাধিক বরাদ্দ করেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্র ছাত্রীর নেট রেট ছিল ৯৭.৩ শতাংশ । স্কুলছুট হওয়াদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৯ শতাংশে। ২০১৭ সালের শিক্ষাবর্ষে দেশের ৪.২৬ কোটি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মোট ৩৬,২১,৮২,২৪৫ কপি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত স্থানীয় স্তরের দপ্তরগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হয়েছে। দরিদ্র্যদের  স্কুলছুট হওয়া আটকাতে ২০১৩-১৪ সালে ৪৯,২৩,৪৮৫ জন পড়ুয়াদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষাখাতে মোট ৯৭০.২৭ কোটি টাকা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র এবং ছাত্রীদের সংখ্যায় সমতা অর্জন করা গেছে ২০১২ সালে, অর্থাৎ রাষ্ট্র সংঘ নির্দিষ্ট সময়সীমার তিন বছর আগেই।

 

একশোটি উপজিলার প্রতিটিতে  কারিগরি শিক্ষা বিদ্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে একটি বিশেষ প্রকল্পের অংশ হিসেবে। ২০১৪-১৫ সালে ১৩.১১ শতাংশ পড়ুয়া এইসব কারিগরি শিক্ষালাভের  সুযোগ পেয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি  অ্যাকাডেমি স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সাইমা ওয়াজেদের তত্ত্বাবধানে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধীদের কল্যানের জন্য কর্মকান্ড চলছে।

 

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি বিভিন্ন সূচকের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭১.৮ বছর। শিশু মৃত্যুর হার কমে প্রতি হাজারে ২৯ হয়েছে । ৬৪টি জেলা হাসপাতাল এবং ৪২১টি উপজিলা হাসপাতালে এখন  চব্বিশ ঘণ্টা স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যায়।

 

২০১৫-১৬ সালে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৯১. ০৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষি উৎপাদনের জন্য কৃষকদের   ৭,১০১ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রয উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কৃষকদের জন্য ১.১৪ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি হিসেবে ধার্য করেছে। কৃষি খামারে যন্ত্রায়নের উদ্দেশ্যে ৩১ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প রূপায়িত করা হচ্ছে। এই যন্ত্রায়ন প্রকল্প সম্পূর্ন হবার কথা ২০১৮ সালে।

 

২০১৬ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৩৫.৬৮ লক্ষ মেট্রিক টন । খাদ্য ভাণ্ডারের মোট পরিমাণ ২০১৫ সালে ১৫,৪৬,৯৩৯ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সময়কালে বাংলাদেশ শ্রীলংকাতে ২৫০০০ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশ এই প্রথম কোনও দেশে চাল রপ্তানি করল। গণ খাদ্য বণ্টন প্রকল্পের আওতায় থাকা মানুষদের মধ্যে ১১,২৭,০০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪,৪৭,০০০ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় বৃদ্ধি লাভ করেছে। গত তিন বছরের মধ্যে  দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১০,২৮৯ মেগাওয়াট থেকে ১৫,৩৫১ মেগাওয়াট করা হয়েছে। ২০১৩ সালে দেশে সর্বাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৬,৬৭৫ মেগাওয়াট, যা ২০১৬ সালে হয়েছে ৯,৩০৬ মেগাওয়াট। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনও ২০১৩ সালের ঘণ্টায়  ৩২১ কিলো ওয়াট থেকে ৪০৭ কিলো ওয়াট করা হয়েছে।

 


দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ২,৭০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট করা ছাড়াউও বিকল্প শক্তি হিসেবে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় বৃদ্ধি লাভ করেছে। গত তিন বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১০,২৮৯ মেগাওয়াট থেকে ১৫,৩৫১ মেগাওয়াট করা হয়েছে। ২০১৩ সালে দেশে সর্বাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৬,৬৭৫ মেগাওয়াট, যা ২০১৬ সালে হয়েছে ৯,৩০৬ মেগাওয়াট। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনও ২০১৩ সালের ঘণ্টায় ৩২১ কিলো ওয়াট থেকে ৪০৭ কিলো ওয়াট করা হয়েছে।

 

ঢাকার উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিমির মেট্রো রেল পথ তৈরির ্র প্রস্তুতি পর্ব চলছে এখন। এর উদ্দেশ্য ঢাকায় যানবাহনের ভীড় কমানো। ঢাকা - চট্টগ্রাম চার লেনের হাই ওয়ের কাজ সম্পূর্ন হয়ে গেছে এবং ২০১৬ সালে খুলে দেওয়া হয়েছে এই রাস্তা।

 

চট্টগ্রামে কর্নফুলির নদীগর্ভে  একটি ৩.৫ কিমির একটি টানেল করার জন্য চিন সরকারের সংগে .একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঢাকা - চট্টগ্রাম হাইওয়ের ১৯৪ কিমির মধ্যে ১৮৪ কিমির উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ন হয়ে গেছে। সিলেটে    সুর্মা নদীর উপর কাজির বাজার ব্রিজ, মাদারীপুরে বাংলাদেশ - চিন ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, শেখ রাসেল ব্রিজ, সুনামগঞ্জে সুর্মা ব্রিজ, প্রভৃতি সহ বহু সেতু নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে।

 

হজরত শাহ জালাল এয়ারপোর্ট  থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের কাজ শেষ হয়েছে। এর জন্য সরকার একটি চিনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করেছে।

 

২০১৫ সালে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-সিলেট-শিলং-             গুয়াহাটী-ঢাকা    পরিষেবা চালু হয়েছে। সেরকম অনেক নতুন দূরপাল্লার ট্রেন চালু হয়েছে ২০১৬ সালে।

 

২০১৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন 'ওয়ার্লড'স মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন'দের তালিকায় ৩৬ তম স্থানে রেখেছে শেখ হাসিনাকে। ফরচুন ম্যাগাজিন 'ওয়ার্ল্ড'স গ্রেটেস্ট লিডার'দের তালিকায়    তাঁকে রেখেছে দশম স্থানে। আবহাওয়া্র পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তার বিরুদ্ধে কাজ করার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার জন্য  আমেরিকার প্রভাবশালী সাময়িকী 'দ্য ফরেন পলিসি' সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রুপায়নের ক্ষেত্রে  শেখ হাসিনাকে ১৩ জন সর্বোচ্চ চিন্তাবিদের মধ্যে রেখেছে। 




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics