Column
শেষ নেই চক্রান্তের

21 Mar 2017

#

স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ রুখতে তৎকালীন পাকিস্তানি সেনারা পূর্বপাকিস্তানে যে বেনজির গণহত্যা চালিয়েছিল, তা ক্রমাগত ভাবে অস্বীকার করে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই নির্লজ্জ অস্বীকারের সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই-এর মদতে প্রকাশিত এবং বিতরিত একটি বই।

ক্রিয়েশন অফ বাংলাদেশঃ মিথস এক্সপ্লোডেড' নামে জুনায়েদ আহমেদের লেখা বইটি সম্প্রতি পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাই কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বইটির বিশেষত্ব, এতে গণহত্যা অথবা কত জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কতজন বাঙালি নারী ধর্ষিতা হয়েছিলেন, সে সব ব্যাপারে     সম্পূর্ন মনগড়া কথা লেখা হয়েছে। যে সব ছবি এই বইতে দেওয়া  হয়েছে, সেগুলি বাঙালিদের গণহত্যা নয়, বাঙালিদের হাতে উর্দুভাষী বিহারি মানুষদের নিধনের ছবি বলে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে।  

 

' ক্রিয়েশন অফ বাংলাদেশঃ মিথস এক্সপ্লোডেড' নামে জুনায়েদ আহমেদের লেখা বইটি সম্প্রতি পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাই কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বইটির বিশেষত্ব, এতে গণহত্যা অথবা কত জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কতজন বাঙালি নারী ধর্ষিতা হয়েছিলেন, সে সব ব্যাপারে সম্পূর্ন মনগড়া কথা লেখা হয়েছে। যে সব ছবি এই বইতে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি বাঙালিদের গণহত্যা নয়, বাঙালিদের হাতে উর্দুভাষী বিহারি মানুষদের নিধনের ছবি বলে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে।
সম্পূর্ন মিথ্যায় ভরা এই বইটির মাধ্যমে পাঠককে বিভ্রান্ত করে বিপথে চালনা করার চেষ্টা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭১ সালে পাক সেনাবাহিনী তিরিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা এবং তিন লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করেছিল বলে যে অভিযোগ করা হয়, তা ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।      একাত্তর সালে মার্চ মাসে বাঙালিদের গুঁড়িয়ে দিতে পাকিস্তানি সেনা বাহিনী যে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করেছিল, এই    তথ্য  উড়িয়ে দিয়ে বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে, শেখ  মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতিরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস এবং রেশন দোকানগুলি লুঠ করতে থাকলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সামরিক অভিযান চালিয়েছিল পাক বাহিনী।

 

বইটিতে বলা হয়েছে  স্বাধীনতা সংগ্রাম যতদিন চলেছিল ততদিন ধরে  বাঙালিরা নাকি হাজার হাজার উর্দুভাষী বিহারদের হত্যা করেছে। মজার ব্যাপার, করাচিতে এই বইটির উদ্বোধন হয় ১৬ই ডিসেম্বর, বিজয় দিবসে, যে দিনটি পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে কালো দিন বলে পরিচিত, কেননা ১৯৭১ সালে  এই দিনেই পাকিস্তান ভাঙ্গে এবং জন্ম নেয় বাংলাদেশ।

 

গণহত্যা এবং গণধর্ষণ কাণ্ড আদপেই ঘটেনি বলে পাকিস্তান যতই দাবি করুক, সর্বজনীন ভাবে স্বীকৃত সত্য এই যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধকে ব্যর্থ করে দিতে পূর্ব পাকিস্তানে দখলদারি সেনারা ব্যাপক গণহত্যা এবং ধর্ষণ চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরেই এ কথা জানা যাবে যে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট অভিযান চালিয়েছিল। সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ করে সেখানে বহু ছাত্র ছাত্রীকে হত্যা করা হয়। বিশিষ্ট ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইম ড্রিং-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাস্তায় ঘুরে ঘুরে পাক সেনারা এক রাতের মধ্যেই ঢাকা শহরে ৭,০০০ মানুষকে হত্যা করে। এ ছিল শুধু শুরু। ড্রিংএর প্রতিবেদন জানাচ্ছে- এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার অর্ধেক মানুষ  বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান এবং খুন হয়ে যান অন্তত ৩০,০০০ মানুষ।

 

গণহত্যার প্রথম  প্রকাশিত রিপোর্ট স্বনামধন্য সাংবাদিক  অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের । 'জেনোসাইড' নামে এই রিপোর্টটি বেরিয়েছিল লন্ডনের সানডে টাইমস-এ ১৯৭১ সালের ১৩ ই জুন। তিনি লিখেছেন, "আমি দেখেছি গ্রাম থেকে গ্রামে, বাড়ি থেকে বাড়ি হিন্দুদের তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অল্প একটু দেখে নেওয়া সুন্নৎ হয়েছে কি না, তারপরেই বিনা বাক্যব্যয়ে গুলি। আমি দেখেছি কুমিল্লার সার্কিট হাউজের হাতায় মানুষদের থেঁতলে মারা হয়েছে, শুনেছি তাদের আর্তনাদ। আমি দেখেছি  হত্যার উদ্দেশ্যে ট্রাক ভর্তি করে মানুষ নিয়ে যেতে, দেখেছি তাদের সাহায্যের জন্য মানবতাবোধসম্পন্ন যারা এগিয়ে এসেছে, অন্ধকার আর কার্ফিউ-য়ের আড়ালে খতম করে দেওয়ার জন্য তাদের টেনে নিয়ে যেতে।"

 

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টাইম ম্যাগাজিনে  জেনারেল টিক্কা খানকে গণহত্যার উদ্দেশ্যে চালানো অপারেশন সার্চলাইট অভিযানে তাঁর ভূমিকার জন্য তাঁকে "দ্য বুচার অফ বেঙ্গল" আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এই অপারেশনের লক্ষ্যস্থলগুলির মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু ছাত্রদের আবাস জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দপ্তর পিলখানা। ওই দিন জগন্নাথ হলের ৩৪ জন ছাত্রকে হত্যা করা হয়। পুরনো ঢাকা সংলগ্ন হিন্দুপ্রধান এলাকাগুলিও  আক্রমণ করা হয়। টাইমের প্রতিবেদন বলছে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রথম দিনেই সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন তিন হাজারের মত।

 

একাত্তরের ২রা অগাস্ট টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন, যাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চালানো ধ্বংসলীলার বিষদ বর্ননা দেওয়া আছে। তাতে লেখা আছে, "পুরনো ঢাকা শহরের কিছু কিছু অংশ, যেখানে সেনারা আগুন ছুঁড়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং সেই আগুনের বৃত্ত থেকে পালিয়ে যেতে চাওয়া হাজার হাজার মানুষকে মেশিনগান চালিয়ে মেরেছিল এবং সেখানে বুলডোজার চালিয়ে প্রায় ২৫টি ব্লক গুঁড়িয়ে সাফ করে দেওয়া  হয়েছে বিশাল এক জায়গা। এই প্রতিবেদনে  আমেরিকার এক পদস্থ কর্মীকে উদ্ধৃত করা হয়েছেঃ " এ  এমন এক চরম অবিশ্বাস্য, হিসেব কষা ব্যাপার, যা পোল্যান্ডে নাৎসিরা যা করেছিল তারপরে এই প্রথম দেখা গেল।"

একাত্তরের ২রা অগাস্ট টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন, যাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চালানো ধ্বংসলীলার বিষদ বর্ননা দেওয়া আছে। তাতে লেখা আছে, "পুরনো ঢাকা শহরের কিছু কিছু অংশ, যেখানে সেনারা আগুন ছুঁড়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং সেই আগুনের বৃত্ত থেকে পালিয়ে যেতে চাওয়া হাজার হাজার মানুষকে মেশিনগান চালিয়ে মেরেছিল এবং সেখানে বুলডোজার চালিয়ে প্রায় ২৫টি ব্লক গুঁড়িয়ে সাফ করে দেওয়া হয়েছে বিশাল এক জায়গা। এই প্রতিবেদনে আমেরিকার এক পদস্থ কর্মীকে উদ্ধৃত করা হয়েছেঃ " এ এমন এক চরম অবিশ্বাস্য, হিসেব কষা ব্যাপার, যা পোল্যান্ডে নাৎসিরা যা করেছিল তারপরে এই প্রথম দেখা গেল।"

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা নারকীয় কান্ড বর্ননা করে ঢাকায় আমেরিকার কনসুলেট থেকে পাঠানো ৩১শে মার্চ, ১৯৭১-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, রোকেয়া হলের ভিতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে পা-বাঁধা অবস্থায় উলটো করে ঝোলানো ছিল সারি সারি নগ্ন নারী দেহ। সম্ভবত তাদের ধর্ষণের পর গুলি করে মারা হয়েছিল।

 

"এখানে, ঢাকায় আমরা স্তব্ধ এবং আতঙ্কিত," লিখেছিলেন আর্চার ব্লাড, ঢাকায় তৎকালীন কনসুলার জেনারেল, যিনি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন জামাত এবং অন্যান্য স্থানীয় সহযোগী্দের নিয়ে পাক বাহিনীর সন্ত্রাসের। ২৭শে মার্চ, ১৯৭১ তারিখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আমেরিকান দূতাবাসে পাঠানো টেলিগ্রামে ব্লাড লিখেছিলেন, "এই তথ্যপ্রমাণ কেবলই জমে চলেছে যে, পাকিস্তানের সামরিক শাসকেরা আওয়ামি লিগ সমর্থকদের একটি তালিকা তৈরি করেছে এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বাইরে ডেকে এনে পরিকল্পিত ভাবে গুলি করে মারা হচ্ছে, এবং তা হচ্ছে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায়।"

 

জন্ম নিতে চলা রাষ্ট্রকে মনীষার দিক দিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য আল বদর জঙ্গি বাহিনীর সহযোগিতায় দখলদারী পাক বাহিনী এক ভয়ানক পরিকল্পনা করে এবার। সমস্ত বুদ্ধিজীবীকে সমূলে খতম করার ফন্দি এঁটে সংগ্রামের শেষ কয়েক দিন ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে তাঁদের ধরে ধরে হত্যা করতে থাকে। হঠাৎ করে ধরপাকড় চালিয়ে বাঙালি সমাজের গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিত্বদের বন্দী করা পর অত্যাচার চালিয়ে গণহারে হত্যা করা হয় এঁদের। কুখ্যাত এই মারণযজ্ঞ যে সব জায়গায় ঘটেছিল, তার মধ্যে রায়েরবাজার এবং মিরপুর উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তানি সেনাদের এই অকল্পনীয় অত্যাচার বিবেক এবং মানবাধিকারের মূল ভিত্তিকেই নড়িয়ে দিয়েছিল।

 

টাইম ম্যাগাজিনে আরও লেখা হয়েছিল, অনেক ক্ষেত্রেই অল্পবয়সী মেয়েদের যৌন সহচরী হিসাবে এক সেনা শিবির থেকে অন্য শিবিরে নিয়ে যাওয়া হত। যে পৈশাচিক অত্যাচার হত তাদের উপর, তার মধ্যে ছিল স্তন কেটে নেওয়া এবং বেয়নেট অথবা বন্দুকের নল ঢুকিয়ে গোপনাঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া। এই ধরনের ধরণের ভয়াল নিষ্ঠুরতা এবং অত্যাচার ইতিহাসে বেনজির। অনেকে বন্দীকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গাছের ডালের সঙ্গে উলটো করে ঝুলিয়ে রাখা হত। নিরস্ত্র অসামরিক মানুষদের যথেচ্ছ হত্যা এত পরিমাণে হয়েছিল যে, সেই সব শবদেহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পেশাদার সাফাইকর্মীদের নিয়োগ করতে হত।

 

সংগ্রামের পরে      ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের অনু্রোধে বাংলাদেশে কাজ করতে আসা চিকিৎসক ডাঃ জিওফ্রে ডেভিস বলেছিলেন যে যতদিন ধরে তিনি কাজ করেছেন, সেই সময়ের মধ্যে  তিনি বহু ধর্ষিতার আত্মহত্যা নবজাতকদের হত্যার কথা শুনেছেন। তাঁর কথায় প্রায় ৫০০০ ধর্ষিতা নারী নিজেরাই নিজেদের গর্ভপাত ঘটান। ত্রাণ শিবিরে কাজ করা চিকিৎসকদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ১৭০,০০০ গর্ভপাত করানো হয়েছিল এবং জন্ম নিয়েছিল ৪০,০০০ জারজ সন্তান।  এই সব ধর্ষিতাদের অনেকেই যৌন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রায় সবাইকেই লজ্জা এবং হেনস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল। এদের একটি বড় অংশই নিজেদের পরিবার এবং সমাজের কাছে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে আত্মহত্যা করতে হয় তাঁদের।

 

টাইম ম্যাগাজিনে সেই সময় অপহৃত নারীদের, যাদের পতিতালয়ে পরিণত হওয়া সেনা শিবিরগুলিতে রাখা হয়েছিল, তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলঃ

 

"অন্যতম ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটেছিল যখন ৫৬৩ জন বাঙ্গালি মেয়েকে, যাদের অনেকেরই সেই সময় মাত্র আঠেরো বছর বয়স, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বাড়ি থেকে তুলে আনা এইসব মেয়েদের পাক সেনাদের যৌন ক্ষুধা মেটানর কাজে ব্যবহার করা হত। এইসব মেয়েরা সবাই তিন থেকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। বলা হয়, এদের গর্ভপাত করানর পক্ষে অনেক বেশি দেরি হয়ে গিয়েছিল, তাই সৈন্যরা পরে এদের মুক্তি দেয় এবং এদের মধ্যে কেউ কেউ নবজাত শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরে।"

 

ন'মাস  ব্যাপী স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জুড়ে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচারে বাঙালিদের হত্যা এবং নারীদের ধর্ষণ করেছে। আক্রান্তদের সংখ্যাই একমাত্র  বিচার্য না, যে চরম পাশবিকতা, অবর্ননীয় নির্যাতন ও লাঞ্ছনা-অপমানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে যেতে হয়েছিল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যায়। এই সব ঘটনার জন্য পাকিস্তান অন্তত দুঃখ প্রকাশ করুক ,  বাংলাদেশ সরকার, সে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এবং সাধারণ জনগণ বার বার এই দাবি করলেও তাতে আদৌ কোনও সাড়া মেলেনি। মাথা নত করবেনা-এই মনোভাবে অনমনীয় পাকিস্তান।

 

ক্ষমা চাওয়ার কাছাকাছি যদি কোনও পাকিস্তানি নেতা এসে থাকেন, তিনি পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মুশা্রফ। দু'হাজার দুই সালে ঢাকা সফরের সময় তিনি সাভারের ওয়ার মেমোরিয়ালে গিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত চতুরতার সংগে   ভিজিটর্স বুকে লিখেছিলেন, " একাত্তরের ঘটনাবলীর জন্য আপনাদের বেদনার শরিক আপনাদের পাকিস্তানি ভাই বোনেরা। ওই দুর্ভাগ্যজনক সময় যে বাড়াবাড়ি হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে।" কিন্তু পাকিস্তানের থেকে সম্পূর্ন এবং নিঃশর্ত ক্ষ্মাপ্রার্থনা দাবি করা বাংলাদেশি জনগণ এই ধরণের দুঃখপ্রকাশ মেনে নেয়নি।

 

কুখ্যাত ব্যাঙলাদেশি যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের প্রাণদণ্ড কার্যকর হওয়ায় 'উদ্বেগ এবং যাতনা' প্রকাশ করে  পাকিস্তান কার্যত আবারও তার সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কথা অস্বীকার করেছে। আরও দুই যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লা এবং মোহম্মদ কামরুজ্জামানের ফাঁসির পরেও একই রকম ভাবে সেই অস্বীকার ঘোষিত হয়েছে পাকিস্তানের তরফ থেকে।

 

গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকৃত গণহত্যার ব্যাপারে মিথ্যা, বানানো তথ্য ছড়ানোর জন্য তীব্র ভাষায় পাকিস্তানের সমালোচনা করেছেন। 'ক্রিয়েশন অফ বাংলাদেশ ; মিথস এক্সপ্লোডেড' নামক বইটি 'আরও একটি চক্রান্তের অঙ্গ বলে বলেছেন তিনি। উনিশশো একাত্তর সালের ২৫ শে মার্চ বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষদের নিধন পর্ব শুরু করে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম গণহত্যার সূচনা করেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাই প্রতি বছর ওই দিনটিকে 'গণহত্যা দিবস' হিসেবে পালন করার অঙ্গিকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও যাতে  একই ভাবে দিনটি পালিত হয়, তার জন্যেও তিনি চেষ্টা করবেন বলে বলেছেন। 




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics