Bangladesh
কেটে গেল বেশ কিছুদিন, রোহিঙ্গা মানুষদের জন্য এখনও লড়াই চালিয়ে চলেছে সরকার

18 Oct 2017

#

ঢাকা, অক্টোবর ১৮ঃ বেশ কিছু সপ্তাহ অতিক্রম করে গেছে তবে এখনও দেশের মাটি থেকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হয়নি।
তবে, এমন পরিস্থিতিতেও মানবিকতার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে আছেন রোহিঙ্গা মানুষেরা।

তারা বাংলাদেশ নিজেদের দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন।

রোহিঙ্গা সমস্যার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার বলেছেন যে উনি আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ের সমাধানে বিশ্বাস রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা বলেনঃ "আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
 
নিজের দেশের মানুষদের  প্রশংসা করে, উনি বলেনঃ "আমাদের দেশের মানুষের মানবিক গুণ আছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সাহায্য নিয়ে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছে।”

শুধু হাসিনা নয়, অন্য মন্ত্রিরাও এই বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন।

রোহিঙ্গাদের লড়াই চালিয়ে চলেছেন এই দেশের সরকার ও মানুষেরা।

নিজের আসন্ন মিয়ানমার সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বার বার সেই দেশের সরকারকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন।

এই বিষয়টি আজকে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

রোববার গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে নবনিযুক্ত ৩৪তম বিসিএস (আনসার) ক্যাডার কর্মকর্তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং মাস্টার্স ইন হিউম্যান সিকিউরিটি কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী।

সেখানে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবার সময় মন্ত্রী বলেনঃ "আমাদের যে অনুপ্রবেশকারী এই দেশে ধুকে পড়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বলব।"

"আমরা তাদেরকে বার বার রিকুয়েস্ট করব  যে তারা যেন নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যান," মন্ত্রী বলেন।

মিয়ানমারে যেন  রোহিঙ্গারা নিরাপদে বসবাস করতে পারে সেই বিষয় আলোচনা করা হবে, জানান মন্ত্রী।
 

এর মাঝে বিদেশি গণমাধ্যমে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাহায্য ও আশ্রয় দেওয়ার ফলে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ নামে অভিহিত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মন্ত্রীসভা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে আজকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শুরুতেই শেখ হাসিনাকে তিনটি ইস্যুতে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
  
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
  
আল্ম সাংবাদিকদের এই বিষয় কথা বলবার সময় বলেনঃ “সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রকাশিত দৈনিক খালিজ টাইমসে প্রধানমন্ত্রীকে স্টার অব দি ইস্ট নামে অভিহিত করা হয়েছে। চ্যানেল ফোর মাদার অব হিউম্যানিটি নামে অভিহিত করেছে। এছাড়া দি এশিয়ান এইজ প্রধানমন্ত্রীকে রাউল ওয়ারেন বার্গের সাথে তুলনা করেছে।"
  
"এই তিনটি ইস্যুতে মন্ত্রিসভা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছে,” উনি বলেন।

আবার রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ নিজেও এই বিষয় নিজের বক্তব্য বার বার রেখেছেন।

রোহিঙ্গা সমস্যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

এই মানুষেরা যাতে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারেন তার জন্য মিয়ানমারের উপরে চাপ অব্যাহত রাখতে আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।

এই কথাগুলি রাষ্ট্রপতি আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর নতুন রাষ্ট্রদূত রেনসে টিরিংক বলেছেন।

উনি আজ বঙ্গভবনে নিজের পরিচয়পত্র রাষ্ট্রপতিকে দিতে যান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন  যে রাষ্ট্রপতি ইইউর চাপ মিয়ানমারের উপরে অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান করেন।

এই সমস্যা সমাধান ও মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে চলেছে বাংলাদেশ সরকার।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন যে এই দেশে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন মেটাতে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহায়তা নেবে।
দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে এই সহায়তার পরিমাণ ও সময়।

বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সনের সঙ্গে বৈঠকের সময় বুধবার এই প্রসঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে এই বিষয় জানান যে বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তা নিতে পারে বাংলাদেশ।

মানবিকতার কথা মাথায় রেখে জায়গা দেওয়া হলেও, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী মনে করেন যে বাংলাদেশে নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সমস্যা মেটানোর জন্য বিশ্ব ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন উনি।

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিলেও এখন এটা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে," উনি আজ এই কথাগুলি বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আয়োজনে পার্লামেন্টারি নেটওয়ার্ক ওয়ার্কশপে শিরীন শারমিন এই কথাগুলি বলেছেন।

গত ২৫ অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা মানুষ এই দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

তারা মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পরে এই দেশে পালিয়ে এসেছেন।




Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics