Column
খালেদা জিয়ার বিদেশে অর্থ পাচারের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে

18 Dec 2017

#

মধ্যপ্রাচ্যের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে প্রকাশ, বেশ কিছু স্থানীয় এবং বিদেশী নাগরিক বে-আইনি পথে বিপুল অর্থ অর্জন করেছেন বলে খোঁজ পেয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় আছেন বি এন পি-র চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি এবং পাকিস্তানর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

অর্থ পাচার, জোর করে অর্থ আদায় এবং উৎকোচ গ্রহণ করে এবং সেই সঙ্গে নিজেদের দেশে উচ্চ সরকারি পদাধিকারের সুযোগ নিয়ে এই সব ব্যক্তি সৌদি আরবে বিপুল সম্পত্তি করেছেন।

 

 

মিডল ইস্ট এজেন্সিজের রিপোর্ট জানাচ্ছে যে, খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের সম্পত্তির মূল্য ১২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে আছে সৌদি আরব এবং কাতারে শপিং মল এবং বহুতল বাড়ি।
মিডল ইস্ট এজেন্সিজের রিপোর্ট জানাচ্ছে যে, খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের সম্পত্তির মূল্য ১২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে আছে সৌদি আরব এবং কাতারে শপিং মল এবং বহুতল বাড়ি।

 

আরবের টেলিভিশন চ্যানেল গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক  (এন আই জি) কে উদ্ধৃত করে কানাডার চ্যানেল, দ্য ন্যাশনাল বিদেশে থাকা এই সব সম্পত্তির খবর প্রচার করেছে। জি আই এন ওয়েবসাইট, যাদের ১৯৯৬ সাল থেকে  আমেরিকার নেভাডাতে দপ্তর আছে, তারা এ রকম বহু ব্যক্তি এবং সংস্থার অতীত এবং পশ্চাৎপটের ব্যাপারেই অনুসন্ধান করেছে।

 

বি এন পি-র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছিল।

 

সৌদি আরবের অ্যান্টি কোরাপশন কমিটি সে দেশের ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক সংস্থাগুলিকে এইসব ব্যক্তি এবং সংস্থাগুলির অর্থ এবং সম্পত্তির ব্যাপারে সমস্ত তথ্য দিতে বলেছে।

 

এই সমস্ত কিছুর মধ্যে খালেদা জিয়ার প্রয়াত পুত্র আরাফত রহমান কোকোর লগ্নিকৃত বিশাল অর্থের ব্যাপারেও তথ্য উঠে এসেছে। দেশে দূর্নীতিতে অভিযুক্ত কোকোর মৃত্যু হয়েছে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে। কোকো বাংলাদেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ টাকা খাটিয়েছিল, এবং এই অর্থের সবটাই ছিল অবৈধভাবে অর্জিত। একইভাবে তার বড়ভাই, বর্তমানে ইংল্যান্ডে লুকিয়ে থাকা তারিক রহমান বিদেশের অনেক জায়গায় বহু লক্ষ     ডলার খাটিয়েছিল। এইসব লগ্নিকৃত অর্থের একটা বিশাল অংশ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সৌদি আরব এবং অন্যান্য পশ্চিম এশিয় দেশগুলিতে পাঠানো হয়েছিল এবং এই সময়সীমার মধ্যেই খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। 

সুতরাং খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবার বিদেশে ১২০০ কোটি ডলার পাচার করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আশু অনুসন্ধান প্রয়োজন এবং সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা দরকার।

 

বিদেশে অর্থ পাচারের দায়ে ২০১৫ সালে কোকোর ছ' বছরের জেল এবং ১৯০ মিলিয়ন টাকা জরিমানার আদেশ হয়েছিল বাংলাদেশের আদালতে। অন্যদিকে ২০.৪১ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার জন্য তার বড় ভাই তারিক রহমানের সাত বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছিল হাই কোর্ট। পালিয়ে থাকা তারিক রহমানের অনুপস্থিতিতেই এই আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট, তাকে বেকসুর খালাস করার জন্য নিম্নতর আদালতের একটি রায় খারিজ করে।

 

সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, খালেদা জিয়ার বিদেশে গচ্ছিত সম্পত্তির ব্যাপারে অনুসন্ধান করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির এম পি  ফকরুল ইমাম। তিনি  জি আই এন- এর রিপোর্টের উল্লেখ করে বি এন পি নেত্রীর বিদেশে থাকা সম্পত্তির একটি তালিকা পেশ করেন।

 

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার পরিবার মোট ১২টি দেশে থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পত্তির অধিকারী।   জানা গেছে, সৌদি আরবের আল আরাফা শপিং মলের মালিক হিসেবে জনৈক আহম্মদ আল আসাদের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে খালেদা জিয়াই এটির মালিক।  কাতারে 'টিপরা' নামে একটি বাণিজ্যিক বহুলতলেরও মালিক খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার প্রয়াত কনিষ্ঠ পুত্র আরাফত রহমান কোকো কাতারের 'ইক্রা' নামের একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের মালিক ছিলেন, আর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র তুহিনের মালিকানায় ছিল কানাডার তিনটি বিশাল বাড়ি, যেগুলি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হত। মালয়েশিয়া, ইউ এ ই এবং সৌদি আরবে কোকোর লগ্নি করা সম্পত্তির আরও খবর প্রকাশ পেয়েছে।

 

বাংলাদেশের বাইরে খালেদা জিয়ার পাচার করা অর্থের ব্যাপারে বি এন পি নেতারা স্বাভাবিকভাবেই মুখ বুঁজে রয়েছেন। অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ন সময়ে, যখন বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার দূর্নীতির জন্য বিচারের মুখোমুখি, সেই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই সব খবর প্রকাশ পেয়েছে। দেশের আদালতে খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারিক রহমান জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট গ্রাফট কেসে অভিযুক্ত।   অভিযোগ, বিদেশি ব্যাংক থেকে অরফ্যানেজ ট্রাস্টের অনাথ শিশুদের জন্য আসা ২.১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তাঁরা।

 

সুতরাং খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবার বিদেশে ১২০০ কোটি ডলার পাচার করেছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আশু অনুসন্ধান প্রয়োজন এবং সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা দরকার।




Video of the day
More Column News
Recent Photos and Videos

Web Statistics