Bangladesh
সরকার তারিখ নির্ধারণ করলে আলোচনাঃ ফখরুল

04 Nov 2013

#

ঢাকা, নভেম্বর ৪: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সোমবার অভিযোগ করেন যে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য কোন পদক্ষেপই নিচ্ছে না ও বিরোধীদের বাধ্য করছে আন্দোলন হেতু রাস্তায় নামতে।

 "আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই। আমরা যেকোনো দিন আলোচনায় বসতে রাজি যদি সরকার একটি নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে ও নির্দলীয় পোল-টাইম প্রশাসন নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়," ফখরুল বলেন।

 
বিএনপির সাংসদ মওদুদ আহমেদ শুক্রবার জানান তাঁর দল সরকারের সাথে আলোচনার বিষয় নিয়ে কথোপকথনের সাথে সাথে তাঁদের আন্দোলনও চালিয়ে যাবেন নির্দলীয় পোল-টাইম সরকারের দাবীতে।
 
"আন্দোলন ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই কেননা সরকার তার জায়গায় অনড় হয়ে আছেন,  অল-পার্টি ইলেকশান টাইম সরকার ছাড়া তাঁরা কিছুই মানতে চাইছেন না," মওদুদ বলেন।
 
"তাই আলোচনার প্রস্তুতিও চলুক ও আন্দোলনও," তিনি বলেন।  
 
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সাজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর মায়ের সাথে মিথ্যাচার করেছেন।
 
"আমি নিশ্চিত যে আপনাদের অধিকাংশই আমার মা এবং খালেদা জিয়ার মধ্যকার টেলিফোন সংলাপ শুনেছেন। খালেদা জিয়ার ঝগড়াটে এবং কর্কশ ব্যবহার ছাড়াও একটি বিষয় সত্যিই আমাকে থমকে দিয়েছে। তিনি আমার মাকে বলেছেন যে, আমার মা তার নিজেই নিজের উপর নাকি ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামালা করিয়েছেন। এইটা সেই একই মিথ্যাচার যা বিএনপি ঠিক হামলার পরপর ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো," জয় তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন।
 
"আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, বিএনপির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এই হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কারান্তরীন রয়েছেন। যেই জঙ্গীদলের নেতা এই হামলা চালিয়েছিলো সেই মুফতি হান্নান, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে যে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো খোদ খালেদাপুত্র তারেকের অফিস হাওয়া ভবনে। আদালত তারেককেও এই মামলায় অভিযুক্ত করেছে। 
 
"এতদসত্বেও, খালেদা জিয়া সরাসরি আমার মায়ের সাথে মিথ্যাচার করেছেন! আমি বিরোধীদলের নেত্রীর এই চরিত্র দেখে হতবাক। একজন সম্মানিত ব্যক্তি কিভাবে এই বিশ্রী মিথ্যাচার করতে পারেন?" তিনি বলেন। 
 
"আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, তার দল এবং তার ছেলে আমার মাকে হত্যা করতে চেষ্টা চালিয়েছিলো। এটি আমার জন্যে চরম ব্যক্তিগত আঘাতস্বরূপ। আমার মা-ও দুইবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার জীবননাশের এই ধরনের চেষ্টা কখনও হয়নি। 
 
"তাদের সাথে পার্থক্যটি খুবই স্পষ্ট যে আমরা খুনি নই। যারা এখনও বলে বেড়ান যে দুই দলই সমান, এটা তাদের ভণ্ডামি। আমরা কোনভাবেই এক নই," জয় বলেন।
 
হাসিনা বুধবার বলেন বাংলাদেশের জনগণের অধিকার আছে জানার যে তাঁর ও খালেদার মধ্যে কি কথোপকথন হয়েছে।
 
"মানুষের জানা উচিত আমাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে। আমাকে অনেক অপমানজনক ও অপ্রাসঙ্গিক কথা শুনতে হয়েছে। আমি তাঁর সব কথার জবাব দিতে পারতাম। কিন্তু আমি চুপ করে ছিলাম শুধু আমাদের দেশের মানুষের হিতের কথা চিন্তা করে," হাসিনা বলেন।
 
"আমি পরম শক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে সেইসব কথাগুলি শোনার ধৈর্য দিয়েছেন," বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
 
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বলেন হাসিনা ও খালেদার টেলিফোনিক কথোপকথন প্রকাশ করা নিয়ম বহির্ভূত।
 
"তবে ভালই হয়েছে এই কথোপকথন ফাঁস হয়ে গিয়েছে কেননা মানুষ জানতে পেরেছেন যে বিএনপি নেত্রীও আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক অরাজকতা থেকে বেরনোর রাস্তা খুঁজতে চান," ফখরুল বলেন সাংবাদিকদের।
 
"তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে প্রধানমন্ত্রী নির্দলীয় সরকারের অধীনে পরবর্তী নির্বাচন করা নিয়ে আলোচনার জন্য খালেদাকে ফোন করেন নি। এই ফোন-কল অল-পার্টি সরকার নিয়ে তাঁর সব রাজনৈতিক নেতাদের ফোন করার প্রোগ্রামের একটি অংশ ছিল," তিনি বলেন।



Video of the day
More Bangladesh News
Recent Photos and Videos

Web Statistics