Column
তরুণদের টেনে আনছে ইসলামি জঙ্গিবাদ

06 Jan 2017

#

ঢাকা ট্রিবিউনের ২০শে ডিসেম্বর সংখ্যার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের জেলাগুলির ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জঙ্গি কার্যকলাপের ঝুঁকি রয়েছে এবং এই প্রবণতা উল্লেখ্যগ্যভাবে বেশি গ্রামীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ছাত্রদের মধ্যে, যাদের ২৬ শতাংশের কাছে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব এসেছে।

বাংলাদেশে যথেচ্ছ ভাবে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হওয়া এ ব্যাপারে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এই সব মাদ্রাসাগুলির অনেকগুলিই ইসলামি জঙ্গিবাদ এবং জিহাদি কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলেছে বলে দেখা গেছে। এই ধরণের বহু প্রতিষ্ঠানেই ইসলামি জঙ্গিদের শিবির করা হয়েছে বলে একটি সমীক্ষায় প্রকাশ। এই শিবিরগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থাকে। শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করা এবং ইসলামি রাষ্ট্র স্থাপনের লক্ষ্যে অস্ত্র শিক্ষা দেওয়া হয় এ সব জায়গায়। ওসামা বিন লাদেন এবং তালিবান নেতা মোল্লা ওমরের স্তুতি সমৃদ্ধ অডিও এবং ভিডিও ক্যাসেট চালিয়ে শিক্ষার্থীদের নাশকতামূলক কাজ প্ররোচিত করার কাজ ব্যাপক ভাবে করা হয় এই সব শিবিরে।
 'স্বপ্নের দেশ' নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের আরও ক্ষমতাসম্পন্ন এবং আলোকপ্রাপ্ত  একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে নিবেদিত বলে দাবি করে, তারা ছাত্রদের উপর জঙ্গিবাদের প্রভাব নিয়ে একটি প্রাথমিক সমীক্ষা করেছিল। সেই সমীক্ষায় দেখা গেছে  জঙ্গি কার্যকলাপে যোগ দেওয়ার ডাক পাওয়া গ্রামের  পড়ুয়াদের ৮৭ শতাংশই বিশ্বাস করে ইসলামি জঙ্গিরা যা করছে, তা সঠিক।  এদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ ছাত্রী এবং ৮৬ শতাংশ ছাত্র জঙ্গিদের প্রচার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শহুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ৪৯ শতাংশ  পড়ুয়ারা জঙ্গিদের কাছ থেকে অথবা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার সরাসরি প্রস্তাব পেয়েছে। এদের মধ্যে ছাত্র ছাত্রী নির্বিশেষে ২৪ শতাংশই ইসলামি দলগুলির প্রচারে বিশ্বাস করে।

 

এই সমীক্ষাপত্রটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রেক্ষাগৃহে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হয়েছে ১৯শে ডিসেম্বর তারিখে। সমীক্ষায় প্রকাশ, উগ্রপন্থী সংগঠনগুলি তরুণদের টার্গেট করে এবং তাদের কর্মসূচী নিয়ে প্রচার চালায়। তারা দাবি করে তারাই ইসলামের রক্ষাকর্তা, গগণতন্ত্র খারাপ জিনিষ এবং পশ্চিমী দেশগুলি চায় ইসলামকে ধ্বংস করে মুছে ফেলতে।

 

গ্রামের পড়ুয়াদের প্রায় অর্ধেককেই মগজধোলাই করে বিশ্বাস করানো হয়েছে যে,  পশ্চিমি দুনিয়া ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে এবং উগ্রপন্থীরা ইসলামের রক্ষক। গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের ৪৪ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের সাত শতাংশ জানিয়েছে জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ার জন্য তারা সরাসরি বার্তা পেয়েছে। আরও নানা ভাবে এ সব প্রস্তাব এসে থাকে-বন্ধুদের থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, নিজেরা নেট সার্ফ করতে গিয়ে, বন্ধুদের থেকে পাওয়া ছাপানো পুস্তিকা এবং বড়দের কাছ থেকে।

বাংলাদেশে যথেচ্ছ ভাবে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হওয়া এ ব্যাপারে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। এই সব মাদ্রাসাগুলির অনেকগুলিই ইসলামি জঙ্গিবাদ এবং জিহাদি   কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলেছে বলে দেখা গেছে। এই ধরণের বহু প্রতিষ্ঠানেই  ইসলামি জঙ্গিদের শিবির করা হয়েছে বলে একটি সমীক্ষায় প্রকাশ। এই শিবিরগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থাকে। শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করা এবং ইসলামি রাষ্ট্র স্থাপনের লক্ষ্যে অস্ত্র শিক্ষা দেওয়া হয় এ সব জায়গায়। ওসামা বিন লাদেন এবং তালিবান নেতা মোল্লা ওমরের স্তুতি সমৃদ্ধ অডিও এবং ভিডিও ক্যাসেট চালিয়ে শিক্ষার্থীদের নাশকতামূলক কাজ প্ররোচিত করার কাজ ব্যাপক ভাবে করা হয় এই সব শিবিরে।

 

যা আশ্চর্যের, তা হল অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মত জাতীয় দিবসগুলি পালন করা হয়না। এমন কি স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করা অথবা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়াকে গৌরবান্বিত করা হয় এ সব জায়গায় জিহাদের শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে। বেশ কিছু এই ধরণের প্রতিষ্ঠানে কোনও উপলক্ষ্যেই জাতীয় পতাকা পর্যন্ত তোলা হয়না, জাতীয় সংগীত গাইতে দেওয়া হয়না ছাত্র ছাত্রীদের। 

যা আশ্চর্যের, তা হল অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মত জাতীয় দিবসগুলি পালন করা হয়না। এমন কি স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করা অথবা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়াকে গৌরবান্বিত করা হয় এ সব জায়গায় জিহাদের শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে। বেশ কিছু এই ধরণের প্রতিষ্ঠানে কোনও উপলক্ষ্যেই জাতীয় পতাকা পর্যন্ত তোলা হয়না, জাতীয় সংগীত গাইতে দেওয়া হয়না ছাত্র ছাত্রীদের।

 

 

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সব মাদ্রাদসার পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা নারীদের বিরু্দ্ধে ধর্মীয় নেতাদের 'ফতোয়া' ঘোষণার পক্ষে। এন জি ও গুলির উন্নয়নমূলক কাজ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, পরিবার পরিকল্পনা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অগ্রগতি, নারী-নেতৃত্ব, পশ্চিমি শিক্ষা, বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতিকে দেশে ইসলাম সম্পর্কিত উৎসাহের প্রতিবন্ধক বলে এরা মনে করে। বর্তমানে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের জন্য এরা দায়ী করে পশ্চিমি শিক্ষা, আধুনিকতা এবং নারী প্রগতিকে। এই সব তথাকথিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে বেরিয়ে এই সব ছাত্র ছাত্রীরা মসজিদ-মাদ্রাসা ছাড়া আর কোথাও কাজ পায়না এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামি জঙ্গি দলগুলির সদস্য  হয়ে জিহাদি কাজকর্মে জড়িয়ে পড়াই ভবিতব্য হয়ে দাঁড়ায়। দেশের সর্বত্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদী এবং নাশকতামূলক কাজকর্মে এরাই যুক্ত হয়ে পড়ে বলে দেখে যায়। দু'হাজার পাঁচ সালে দেশ জুড়ে একই সঙ্গে যে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, তার জন্যে দায়ী ছিল এরাই।

 

৯/১১ তে আমেরিকার জোড়া টাওয়ার ধ্বংসের পর পাকিস্তানে যাদের ব্যাংক  অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়া হয়েছিল, কুয়েতের সেই  রিভাইভাল অফ ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি, আল কায়দার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার জন্য সারা পৃথিবীতে নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া সৌদি আরবের আল হারমেইন ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য  সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি সহ আন্তর্জাতিক ইসলামিক এন জি ওগুলি এই সমস্ত তথাকথিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে অর্থ সরবরাহ করে আসছিল। এ ব্যাপারে অন্য যে সব ইসলামি এন জি ও গুলি নজরে এসেছে সেগুলির মধ্যে আছে আল ইউ এ ই-র আল ফুজেইরা, সৌদি আরবের রাবেতা আল আলম আল ইসলামি এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামি রিলিফ অর্গানাইজেশন। এই সব সংগঠনের অর্থে মাদ্রাসা ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা মূল্যে খাদ্য, শিক্ষা এবং থাকার ব্যবস্থা করার মত নানা রকমের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। এদের দরিদ্র অভিভাভকদের বোঝানো হয় বাচ্চাদের এই সব মাদ্রাসায় পাঠালে শুধু যে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হবে তা নয়, ইসলামের পুনর্জাগরণে সাহায্য করা হবে।

 

কিশোর-তরুণদের রীতিমত মগজ ধোলাই করে তাদের জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়ায় প্ররোচিত করা কি অসীম ক্ষমতা এই সব সংগঠনগুলির, তা বোঝা যায় ২৪ ডিসেম্বর তারিখে  ঢাকার আশকানা অঞ্চলের   ঘটনার মধ্যে দিয়ে। গোপন ডেরায় পুলিশি হানার সময় চার বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এক মহিলা জঙ্গি নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল সেই ঘটনায়, যাতে বাংলাদেশে প্রথম কোনও আত্মঘাতী মহিলা জঙ্গির কথা জানা গেল। ওই একই  ঘটনায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ উপেক্ষা করে একটি ১৪ বছরের কিশোর মৃত্যু না হওয়া  পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকের লড়াই লড়েছিল। এক মহিলা এবং এক কিশোরের এই চরম বেপরোয়া মনোভাব থেকে বোঝা শক্ত নয় কী পর্যায়ের উগ্র মানসিকতার বীজ সঞ্চার করা হয় এদের মধ্যে। গত কয়েক মাসে নিরাপত্তা বাহিনী ধরপাকড় চালিয়ে বিস্ফোরকের বিশাল ভাণ্ডার উদ্ধার করেছে, ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসবাদীদের অনেকগুলি সেল এবং গ্রেপ্তার করেছে বহু জঙ্গিকে।  গত ছ' মাসে নিরাপত্তাবাহিনী অনেকগুলি রেইড চালিয়েছে। এতে  সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারি আক্রমণের পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরী সহ ২৮ জন জঙ্গি। কিন্তু এত ধরপাকড়, হানা সত্ত্বেও ইসলামি জঙ্গি  তৎপরতা কিন্তু চলছেই। এই কার্যকলাপে নারীরাও এখন যোগ দিচ্ছে। গুটিয়ে যাওয়ার বদলে ইসলামি সন্ত্রাসবাদীরা নতুন করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এখনও।




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics