Column
বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সহযোগিতা

24 Apr 2017

#

দু'হাজার ন' সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দ্রুত অগ্রগতি ঘটে চলেছে। সামাজিক এবং মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকের দিক দিয়ে যে সামগ্রিক উন্নতি ঘটেছে, তা বিস্মিত করেছে সারা পৃথিবীকে। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত করার সংকল্প নিয়ে পথ চলা শুরু করে দেশের অর্থনীতি প্রতি বছর বেড়ে চলেছে সাত শতাংশ করে ।

 এ' ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের ছ' বছর আগেই, অর্থাৎ ২০১৫ সালেই মধ্য- আয়ের দেশের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। এখন দেশের লক্ষ্য, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের শ্রেণীভুক্ত হওয়া। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩১তম বৃহত্তম অর্থনীতে পরিণত হওয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে এই অর্থনীতি ২৮তম বৃহত্তম স্থানে পৌঁছবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে।


এই উন্নতি এবং অগ্রগতির পথে চলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপুর্ন এবং দায়িত্ববান রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 'সবার সংগে বন্ধুত্ব, দ্বেষ নয় কারুর প্রতি'- আওয়ামী লীগ সরকারের এই নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতি সক্রিয় কূটনীতির পথে চলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশ এখন একটি দৃশ্যমান পরিচিত বহন করছে। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আরও বেশি সম্পর্ক তৈরি করা এবং আরও বেশি আঞ্চলিক যোগাযোগ গড়ে তোলার উপরে গুরুত্ব দিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার উপরে জোর দিয়েছে। এই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ২,৫৪৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের মধ্যে দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত।
সমাজের নীচু স্তর অবধি অগ্রগতি,   দারিদ্র অপনয়ণ, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল পরিষেবার ব্যাপক প্রসার এবং উন্নত শিক্ষার ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। দেশে দারিদ্র্যর হার ২০০৬ সালের ৩৮.৮ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২২.৪ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১২ শতাংশে।


খাদ্য, ছেলে মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুবিধা দানে দেশ যেমন স্বনির্ভর হয়েছে, তেমনি কম্যুনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে   গ্রামীণ এলাকা অবধি   সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের বন্দোবস্ত  নিশ্চিত করা হয়েছে বাংলাদেশে। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রামপলে কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত কতগুলি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের মধ্যাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ অংশের সড়ক যোগাযোগ সুগম করতে সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে  পদ্মার উপর দিয়ে দেশের বৃহত্তম নদী-সেতু নির্মানের সংকল্প নিয়েছে। পদ্মা মালটিপারপাস ব্রিজ নামের এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তম। সম্পূর্নভাবে সরকারি অর্থে নির্মীয়মাণ এই সেতুটির চল্লিশ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে।


এই উন্নতি এবং অগ্রগতির পথে চলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপুর্ন এবং দায়িত্ববান রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 'সবার সংগে বন্ধুত্ব, দ্বেষ নয় কারুর প্রতি'- আওয়ামী লীগ সরকারের এই নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতি সক্রিয় কূটনীতির পথে চলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এখন বাংলাদেশ এখন একটি দৃশ্যমান পরিচিত বহন করছে। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আরও বেশি সম্পর্ক তৈরি করা এবং আরও বেশি আঞ্চলিক যোগাযোগ গড়ে তোলার উপরে গুরুত্ব দিয়ে চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার উপরে জোর দিয়েছে। এই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ২,৫৪৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের মধ্যে দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত।


ঐতিহাসিক ভাবে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে নিকট সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার জন্য এই দুই দেশ সব সময়ই প্রতিবেশীর থেকেও কিছুটা বেশি। শুধু সীমান্ত এবং নদী নয়, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্যও এক এই দুই দেশে। আর এই নৈকট্য আরও নিবিড় হয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার অভিজ্ঞতা এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার সময় থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে উন্নততর জায়গায় গেছে । সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বহুদিন ধরে চলে আসা বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়য়ের সমাধান, বিশিষ্ট কূটনীতি, দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সাধন , বিদ্যুৎ এবং শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং  বাণিজ্য এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে         এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।


কূটনৈতিক সাফল্য


স্থল সীমান্ত চুক্তিঃ শেখ হাসিনা সরকারের ক্রমাগত প্রচেষ্টার ফলে ২০১৫ সালে পৃথিবীর সব থেকে জটিল এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমান্ত-বিষয়ক সমস্যার সমাধান হল। এই চুক্তি আদতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত হলেও দু'দেশের পরবর্তী সরকারগুলি রাজনৈতিক দিক সামলে এর রূপায়ন ঘটাতে পারেনি। শেখ হাসিনা কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই ভারতের সংগে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির ক্ষেত্রে স্থল সীমান্ত চুক্তি রূপায়োনের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের পর স্থল সীমান্ত চুক্তি রূপায়োণের পথ প্রশস্ত হয়।  এর ফলে বাংলাদেশে ১১১ টি ভারতীয় ছিটমহল এবং ভারতে ৫১ টি ছিটমহল বিনিময় হয় এবং সীমান্তের দু'দিকে বসবাসকারী এই ছিটমহলগুলির অধিবাসীরা এখন বাংলাদেশ অথবা ভারতের নাগরিকত্বের অধিকারী হয়েছেন। নাগরিক পরিষেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রভৃতি সুবিধার অধিকারী এখন তাঁরা। ২০১৫ সালের ১ লা অগাস্ট ছিল  ৫১,০০০ ছিটমহলবাসীদের জীবনের একটি মহাক্ষন। এই দিনেই ৬৮ বছর ধরে চলা তাঁদের নাগরিকত্বহীন জীবনের অবসান ঘটে, শুরু হয় নতুন যাত্রার, নতুন আশার।

ঐতিহাসিক ভাবে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে নিকট সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার জন্য এই দুই দেশ সব সময়ই প্রতিবেশীর থেকেও কিছুটা বেশি। শুধু সীমান্ত এবং নদী নয়, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ঐতিহ্যও এক এই দুই দেশে। আর এই নৈকট্য আরও নিবিড় হয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার অভিজ্ঞতা এবং আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার সময় থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে উন্নততর জায়গায় গেছে । সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বহুদিন ধরে চলে আসা বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়য়ের সমাধান, বিশিষ্ট কূটনীতি, দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সাধন , বিদ্যুৎ এবং শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং বাণিজ্য এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।


গঙ্গার জল বন্টন চুক্তিঃ  বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় দেশের  মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ৫৪ ট নদী। দুদেশই যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে এই নদীগুলির জল পায়, তার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক নদী কমিশন ১৯৭২ সাল থেকেই সমন্বয় রক্ষার কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার প্রথম দফার শাসনকালে ১৯৯৬ সালে দু'দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী একটি ৩০ বছরব্যাপী জল বণ্টন ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়  এবং নদীর নিম্ন অববাহিকা অঞ্চল হিসেবে জলের উপরে বাংলাদেশের অধিকার স্বীকৃত হয়। দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির দিক দিয়ে এই চুক্তি একটি অতি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, কেননা ১৯৮২ সাল থেকে প্রায় ১৪ বছর ধরে বিষয়টি অমীমাংসিত ছিল।

সমুদ্র সীমানা চিহ্নিতকরণঃ ২০১৫ সালে হেগের পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আরবিট্রেশনে সফল ভাবে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে বাংলাদেশ এবং ভারত  তাদের মধ্যে বহুদিন ধরে চলতে থাকা সমুদ্র সীমানা বিষয়ক বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে এবং তার ফলে বঙ্গোপসাগরের ২৫,৬০২ বর্গফুট বিতর্কিত অঞ্চলের মধ্যে ১৯,৪৭৬ বর্গফুট সমুদ্র অঞ্চল বাংলাদেশের সীমানাভুক্ত হয়েছে। কোর্ট অফ আরবিট্রেশনের রায়ের ফলে শুধু বিতর্কের সমাধানই হয়নি, এর ফলে দু'দেশের মধ্যে  বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনার দ্বারও উন্মুক্ত হয়েছে। এর ফলে দু'দেশই উপকৃত হবে। পরিণত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি অতি উত্তম দৃষ্টান্ত এটি।


কূটনৈতিক এবং উচ্চবর্গীয় সফরঃ  শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনকালে বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকারের তরফ থেকে সব সময়ই দু'দেশের মধ্যে  উচ্চপদস্থ আমলা এবং মন্ত্রীদের সফর হয়ে এসেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই ধরণের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সফর হয়েছে। এর শুরু ২০১০ সালে শেখ হাসিনার ভারত সফর দিয়ে, যার পরে আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশে যান ২০১১ সালে।  তাঁর এই সফরকালেই দু'দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কোঅপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে নতুন যুগোপযোগী সম্পর্ক তৈরির ভিত্তি স্থাপন করে।


ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর পদ গ্রহণ করার পর প্রথমবার বাংলাদেশ সফর করেন ২০১৩ সালে। এই ঘটনা দু'দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের একটি স্থায়ী ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।  অনুরূপ দৃষ্টান্তে পরের বছরই, অর্থাৎ ২০১৪ সালে ভারতে যান বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ। এ ব্যাপার খুবই তাৎপূর্ন যে, ভারতের বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবার পর সুষমা স্বরাজের  সরকারি সফর ছিল বাংলাদেশে এবং ২০১৪ সালের জুন মাসের সেই সফর দু'দেশের নিকট বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কে আরও গতি আনে।


ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে। এর পর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে এই দুই দেশের নেতা-নেত্রীরা আলাদা করে সাক্ষাত করেছেন-শেষবার ২০১৬ অক্টোবরে গোয়াতে ব্রিকস-বিমস্টেক সম্মেলনের সময়।

২০১৭ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফর দু'দেশকে এখন আরও কাছাকাছি এনে ফেলেছ। শেখ হাসিনার শেষতম সফরের সময় ভারত বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলির জন্য স্বল্প সুদে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে পায়রা, মঙ্গলা এবং চট্টগ্রাম বন্দর। দু'দেশের প্রতিনিধিরা পাঁচটি প্রতিরক্ষা সহকযোগিতা চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে আছে ভারত থেকে প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম কেনার জন্য  ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ধারাবাহিক ঋণ। এই সফরের সময়েই কলকাতা-খুলনা রুটে নতুন বাস পরিষেবা এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর ফলে দু'দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা দু'দেশের সম্পর্কের ভিত্তিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাবে।  এই সফরের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরা হয় দু'পক্ষ থেকে।


মানুষের সংগে মানুষের যোগাযোগঃ অতীতের থেকে আরও অনেক বেশি হারে এখন দু'দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হচ্ছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক ভারতে এসেছিলেন। ঐ বছরে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে দশ লক্ষের বেশি ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছিল। ভারত যাত্রার নিশ্চিত টিকিট হাতে কোনও মানুষের এখন ভিসার আবেদন করার জন্য আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হয়না।


সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দু'দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ও অত্যুচ্চ পর্যায়ে গেছে। ঢাকায় ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার ২০১০ সালে থেকেই নিয়মিত ভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। আই সি সি-তে নিয়মিত ভাবে যোগ ব্যায়াম, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, মনিপুরী নৃত্য, আঁকা এবং হিন্দি ভাষা শিক্ষার পাঠক্রম চালু আছে। ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস  টেগোর চেয়ারের প্রবর্তন করেছে। ২০১২ সালে থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে একশো তরুণের একটি দল ভারতে ঘুরতে যায়। ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় ভারতীয় টেলিভিশনে বাংলাদেশি অনুষ্ঠান দেখানোর জন্য একটি সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।


বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আই সি সি আর থেকে কলা, বিজ্ঞান, কারিগরি এবং অন্যান্য বিভিন্ন সাধারণ পাঠক্রম ছাড়াও অভিনয়, গীতবাদ্য, চারুকলা, খেলাধুলা ইত্যাদি বিশেষ ক্ষেত্রগুলির জন্যেও  স্কলারশিপ দেওয়া হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য রয়েছে কলম্বো প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত আই টি ই সি, টি সি এস স্কলারশিপ এবং আই সি সি আর, আয়ুশ, কমনওয়েলথ, সার্ক এবং আই ও আর- এ আর সি -র মত স্কলারশিপ/ফেলোশিপের ব্যবস্থা। এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক (২০০ স্কলারশিপ) এবং স্নাতক (৪৭৮) স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ভারত থেকে বৃত্তি দেওয়া হয়। ২০১১ সালে থেকে দিল্লিতে ফরেন সার্ভিস ইন্সটিট্যুটে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। 




Video of the day
Recent Photos and Videos

Web Statistics